,

অবশেষে জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংস্কারের সিদ্ধান্ত

আল মামুন, জকিগঞ্জ:
প্রতিষ্ঠার প্রায় ৭০ বছর পর জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল মসজিদ কমিটি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিকল্প স্থানে নামাজের ব্যবস্থা করে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে মসজিদ সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে সভাসূত্র জানিয়েছে।
জকিগঞ্জ পৌরএলাকার প্রায় সব কয়টি মসজিদই মুসল্লীদের সুবিধার্থে সংস্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে জকিগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশের পুরাতন কোর্ট মসজিদ, পশ্চিম পাশের থানা জামে মসজিদ, উত্তর পাশের পশ্চিম কেছরীর জামে মসজিদ, পীরেরচক জামে মসজিদ, উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদ বিগত কয়েক বছরের মধ্যে দৃষ্টিনন্দনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু জকিগঞ্জ বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি দীর্ঘ ৮০ বছরের পুরাতন হলেও তাতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। মসজিদটিতে যেমনি রয়েছে প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব তেমনি রয়েছে অবকাঠামোগত সসমস্যাও। অযুখানা ও প্রশ্রাবখানার সমস্যাও প্রকট। অযুর জায়গা কম থাকার কারণে প্রতিটি ওয়াক্তে মুসল্লীদের অযুখানা ও বাথরুমে লাইন ধরতে দেখা যায়। ফলে মুসল্লীদের পোহাতে হয় ভোগান্তিতে। শুধু তাই নয় অযু ও বাথরুমের কাজ শেষ করতে দেরী হবার কারণে কেউ কেউ ঠিকমতো নামাজের জামাতও পান না।
মসজিদ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোক্তাদির হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুস শাকুর চৌধুরী (কোকিল মিয়া)র পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র মো.খলিল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম হায়দার, মসজিদ কমিটির সহসভাপতি ডা. আব্দুল কাদির,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক, গোলাম মোস্তফা মাসুক, সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ,মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক মঈন উদ্দিন, জকিগঞ্জ টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জকিগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী(ছাবু), সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার জবাই মিয়া, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন সুহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মখলিসুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এমএজি বাবর, নাসিম আহমদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল আহাদ প্রমুখ। জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পূণ:নির্মাণের লক্ষ্যে পৌর মেয়রকে আহবায়ক করে একটি উপদেষ্টা কমিটি ও সমাজসেবী সয়ফুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মুসলেহ উদ্দিন সুহেলকে সদস্য করে একটি নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর চৌধুরী জানান, সভায় উপস্থিত সদস্যরা সুন্দর নির্মাণ শৈলীর ৫তলা ভবন বিশিষ্ট মসজিদ পূণ:নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঈদগাহ মাঠে অস্থায়ী নামাজের ঘর করে বর্তমান মসজিদটি ভাঙ্গা হবে। তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে পুরাতন পীরেরখালের পাশে স্বল্প পরিসরে ছনবাশেঁর ঘরে মসজিদের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ৩০ বছর আগে পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে পূণ:নির্মাণ করা হয়। তারও প্রায় ৫ বছর পরে দ্বিতীয়তলা নির্মাণ করা হয়।
বর্তমানে দোতলা বিশিষ্ট এ মসজিদটিতে প্রায় ১২শ মুসল্লী একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে পবিত্র জুমা, শবে বরাত, শবে কদর ও রমজান মাসে মুসল্লীর সংখ্যা বেড়ে যাবার কারণে অনেক মুসল্লী কেন্দ্রীয় মসজিদে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য মসজিদে চলে যান। জবাই মিয়া বলেন, পরিকল্পিতভাবে মসজিদটি তৈরী না করায় মুসল্লী বেড়ে যাওয়ার কারণে মুসল্লীদের ভোগান্তি হচ্ছে। মসজিদ কমিটির সদস্যরা মসজিদটি সংস্কারের ব্যাপারে আন্তরিক রয়েছেন। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে মসজিদটি সংস্কার কাজে হাত দেয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে একজন ভুক্তভোগী মুসল্লী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রচন্ড গরমে মানুষ এমনিতেই চায় একটু স্বস্তি। রমযান মাসে তারাবীর নামাযে গরমের তীব্রতায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা নাকাল। জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তারাবীর নামাযে গরমের কারণে মুসল্লীগণ অস্থির। মসজিদের নিচতলায় গরম খুব বেশী। তার চাইতে আরো বেশী গরম উপরের তলায়। দেখা যায়, অনেক মুসল্লী অর্ধেক নামায পড়ে বেড়িয়ে যান। কেউ কেউ গরমের অতিষ্টতায় ১০/১২ রাকাত পড়েই বেড়িয়ে যান। অনেক পুরনো ফ্যানগুলোও যেন বুড়ো হয়ে গেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের কোন খেয়াল নেই এদিকে। কমিটির দায়িত্বশীলরা দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের অবহেলাই এর মূল কারণ।
প্রকট এ সমস্যা নিরসনের আশু প্রয়োজন। একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে বিশাল এ মসজিদে অবশ্যই এয়ার কন্ডিশনের প্রয়োজন। কমিটি ও কর্তৃপক্ষের লোকেরা দায়িত্ববোধ নিয়ে একটু খেয়াল করলেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব’। মসজিদ কমিটির সহসভাপতি মুক্তাদির আহমদ চৌধুরী বলেন, সৌদি সরকারের সহযোগিতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে আমরা চেষ্টা করছি সে প্রকল্পের আওতায় মসজিদটিকে নিয়ে আসতে। এ জন্য আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের মসজিদের জায়গা আছে প্রায় ৩৭ শতক। এর মাঝে অনুমান ২০ শতক জায়গায় বর্তমান মসজিদ ভবনটি রয়েছে বাকী জায়গায় মসজিদ মার্কেট রয়েছে।
জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল হাছান বলেন, আমি ১৮ বছর ধরে এই মসজিদে আছি। এখানে ব্যবসায়ী,রাজনীবিদ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সাধারণ মুসল্লীরা নামায আদায় করেন। জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংস্কার না হবার কারণে বিগত কয়েকটি ঈদের জামাতও এ মসজিদে আদায় করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ আসলে ঈদগাহ ও মসজিদ সংস্কারের বিষয়টি সামনে আসে পরে তা আর বাস্তবায়ন হয় না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

     এ জাতীয় আরো খবর