,

ইছামতি ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ

মুনশি আলিম ::

গতকাল ঐহ্যিবাহী ইছামতি ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অত্যন্ত জাকজমকভাবেই একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিলো দ্বাদশ ও স্নাতকশ্রেণির শিক্ষার্থীরা। সেই ১৯৯৮ সালে হতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল কলেজটি। এরপর হাঁটি হাঁটি পা পা করে কেটে গেছে প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো কলেজটি বেশ জমকালোভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় সেলিম উদ্দীন এমপি মহোদয়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত উপস্থিত হতে পারেননি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শফিকুল হক তাপাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থি ছিলেন ইছামতি কলেজের দাতা সদস্য আব্দুল মুকিত চৌধুরী, সেলিমুল হক চৌধুরী, লুৎফুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান মাজেদ আহমদ চঞ্চল, গভর্নিংবডির সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক, ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. রায়হান, বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহজাহান চৌধুরী প্রমূখ।

পুরো অনুষ্ঠানকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বে নবীনদেরকে বরণ এবং দ্বিতীয়পর্ব সাজানো হয়েছে মনোজ্ঞসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। মারজানা আক্তারের কোরান তেলাওয়াত ও মায়ামতি বিশ্বাসের গীতাপাঠের মাধ্যমেই অনুষ্ঠানের মূলকার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্বে সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করেন তাহলিয়া আক্তার তাপাদার ও হুমায়রা জান্নাত চৌধুরী। দ্বিতীয় পর্বে সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করেন মহসিন মিয়া ও মিনহাজ আহমেদ।

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে নবীনদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন হালিমা আক্তার চৌধুরী, মাম্পি চক্রবর্তী, মিনহাজ আহমদ ও মামুনুর রশিদ প্রমুখ। নবীনদের উদ্দেশ্যে আরও বক্তৃতা রাখেন ইছামতি কলেজের সাবেক ছাত্র মো. মোস্তফা উদ্দিন, সাবেক ছাত্র ও মিডিয়াকর্মী হোসাইন আহমদ সুজ্জাদ প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তৃতায় অধ্যক্ষ জালাল আহমেদ কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বর্তমানপর্যন্ত প্রত্যেকের অবদানই অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অদূর ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন। লুৎফুরে রহমান স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান মাজেদ আহমদ চঞ্চল নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্রও গঠন করতে হবে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. রায়হান আহমদ নবাগত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পড়াশোনার মাধ্যমেই বড়ো হতে হবে। বড়ো হতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই। তিনি আজীবন কলেজ ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।
গভর্নিংবডির সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক নীবনদের উদ্দেশ্যে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষত হতে হবে। নতুবা কোনো বিদ্যাই জাতীয় জীবনে মঙ্গল বয়ে আনবে না। নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিঙ্খলা বিষয়ে বক্তৃতা করেন অত্র কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক শামসুল ইসলাম এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক লুৎফুর রহমান খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন এই কলেজের বাংলা বিষয়ের খণ্ডকালীন প্রভাষক লিপি সরকার ও তার দল। সাংস্কৃতিক পর্বে গানের পর পরই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় রম্যনাটক। কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক কবি, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার মুনশি আলিম’র নির্দেশনায় ‘পেচগি’ নামক একটি রম্যনাটক মঞ্চস্থ করা হয়। উল্লেখ্য, এ দিনেই অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জনাব জালাল আহমেদ’র জন্মদিন কেক কেটে উদযাপন করা হয়।

     এ জাতীয় আরো খবর