,

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলের বিধান বাতিল সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি আবেদন হয়েছে।

আগামী ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অক্টোবরে তফসিল ঘোষণার তোড়জোড়ের মধ্যে এইিআবেদনটি করেন ‘জনস্বার্থে’ বিভিন্ন মামলা করে আলোচিত আইনজীবী ইউনুছ আল আকন্দ।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ারর বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি তিনিই করেছিলেন; তার সম্পূরক হিসেবে গত রোববার নতুন আবেদনটি হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় করেন তিনি।

মঙ্গলবার আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।

ইউনুছ আকন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত বলেছেন, চলতি অবকাশের পর নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করতে।”

সর্বোচ্চ আদালতে গত ১৬ অগাস্ট শুরু হওয়া অবকাশ শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে নিয়মিত কার্যক্রম।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)’ সংশোধন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করার বিধান যুক্ত হয়।

২০১৪ সালে বরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচনে সংশোধিত আরপিও’র ওই বিধানের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে না পেরে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ইউনুছ আকন্দ।

তার আবেদনে ওই বছরের ১২ মে হাই কোর্ট রুল দিয়েছিল; যাতে ওই উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ১২-এর ক (৩ক) ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। জবাব তারা এখনও দেননি বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী ইউনুছ আকন্দ।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে যে সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি, তাতে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা সহজ করার কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি।

১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়ে ইউনুছ আকন্দের যুক্তি দেখান, কোনো আসনে পাঁচ লাখ ভোটার থাকলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের তা লাগছে না।

“ফলে আইনটি একদিকে যেমন বৈষম্যমূলক, তেমনি সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এ সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বেচানের তফসিল ঘোষণা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছি।”

(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

     এ জাতীয় আরো খবর