,

চিকুনগুনিয়া বেশ ছড়ালেও মহামারী আকারে নয়: প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়া আক্রান্তের হার বাড়লেও তা মহামারী আকার ধারণ করেনি বলছেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। চিকুনগুনিয়া মহামারী আকারে ধারণ করেছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চিকুনগুনিয়া মহামারী আকার ধারণ করেনি, তবে বেশ ছড়িয়েছে; আর এটা মহামারী কোনো রোগও না।

“চিকোনগুনিয়ার প্রকোপ ঢাকা শহরেই বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জেলায় এমন কোনো কেইস পাওয়া যায়নি।”

দুইদিন আগেও মানিকগঞ্জ থেকে ঘুরে এসেছেন জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‍“সেখানে দুজনও রোগীও পাওয়া যায়নি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত।”

তিনি বলেন, “চিকুনগুনিয়া মারাত্বক কোনো রোগ নয়। এটা মশাবাহিত একটি রোগ, যেভাবে ডেঙ্গু হয়।

“আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে এবং মানুষ যাতে সচেতন হয় সেজন্য সমস্ত মন্ত্রণালয়, সব মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে আমরা পথসভা করেছি।”

বিভিন্ন জেলায় মশা নিধনে কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটা বিষয়ৃ মশা মারার জন্য বা মশা নিধন করার জন্য কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যবস্থা নাই, কোনো দায়িত্ব না। এটা মিউনিসিপল করপোরেশন করবে। তারা হয়তোবা এ বছর সেভাবে করতে পারেনি, সময় মতো করতে পারেনি।

“বর্ষা চলে আসছে। যার ফলে মশা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চিকুনগুনিয়াও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আশ্বস্ত করছি যে চিকুনগুনিয়া এখন একটু কমে আসছে। কারণ মানুষ সচেতন হয়েছে।”

মশার কামড় থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান জাহিদ মালেক।

চিকুনগুনিয়া রোধে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, মানুষ যখন হাসপাতালে আসবে তাদেরকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া এবং টেলিভিশন, পেপার-পত্রিকার মাধ্যমে মানুষকে জানানো।

“কিভাবে চিকুনগুনিয়া রোগ থেকে নিস্তার পাওয়া যায় এবং কিভাবে চিকিৎসা দিতে হয় এ বিষয় আমাদের দায়িত্ব।”

মশা নিধনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার মেয়রদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলে আরেক প্রশ্নের জবাবে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয়ে উনাদেরকে আহ্বান করে আলোচনা হয়েছে। উনাদেরকে আমরা বলেছি, মশা নিধন করার জন্য আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

“আপনারা আপনাদের এলাকা আরও সাফ (পরিষ্কার) করেন। এটাতো আমরা করতে পারব না। আমরা চিকিৎসা দিতে পারব। উনারা আমাদের আশ্বস্ত করে গেছেন যে, আগামীতে মশা নিধনে আরো ভালো পদক্ষেপ নেবেন।”

এবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে ‘পরিবার পরিকল্পনা: জনগণের ক্ষমতায়ন, জাতির উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এবারের প্রতিপাদ্যে জাতির সামগ্রিক উন্নয়নকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যে উন্নয়ন আসবে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে।

“ক্ষমতায়ন কোনো সহজ গাণিতিক সমাধান অথবা দৃশ্যমান কোনো দালান নয়। এটি মূলত একটি মূল্যবোধ, যা মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করে।”

 

     এ জাতীয় আরো খবর