,

অবহেলায় থাকা জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংস্কার হবে কবে ?

আল মামুন, জকিগঞ্জ:
সিলেটে ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন যারা তাদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য হলেন জকিগঞ্জের কৃতি সন্তান ভাষা সৈনিক মতিন উদদিন আহমদ। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম মুক্তাঞ্চল জকিগঞ্জ। এই জকিগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয় স্বাধীনতার পরের বছরই । সেই সাদামাটাভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৬৬ বছর পরও। দু:খজনক হলেও সত্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পৌর পরিষদের কারো শুভ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়নি শহীদ মিনারের প্রতি। ডাক বাংলো সড়কের দি জকিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে নির্মিত এ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্ব স্তরের মানুষ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে থাকেন। যে দিকে ফুল দেয়া হয় সে দিকেই প্রস্থান করতে হয়। ফলে জটলা ও ঝামেলা সৃষ্টি হয়। শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে সৃষ্ট মনোমালিন্যের জের ধরে জকিগঞ্জের সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমরান হোসেন উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে ২০১১ সালে একটি শহীদ মিনার তৈরী করেন। তখন অনেকেই সমালোচনা করে বলছিলেন কেন্দ্র্রীয় শহীদ মিনারের প্রতি নজর না দিয়ে আলাদা শহীদ মিনার বানিয়ে জকিগঞ্জে প্রশাসন ও জনতার মধ্যে বিভাজন তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে আসছেন।
১৯৮৮ সালে এ অঞ্চলের ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। তারও ১৬ বছর আগে ১৯৭২ সালে জকিগঞ্জের প্রগতিশীল কিছু দেশপ্রেমিক মানুষ তখন সেই শহীদ মিনারের বীজ বপন করেন। প্রয়াত এমএলএ আব্দুল লতিফের নেতৃতে মরহুম নিছার আলী মুক্তার, মরহুম মুহিবুর রহমান খান মুক্তার, মুসলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাবেক মেয়র মরহুম আনোয়ার হোসেন সুনা উল্লাহ, ফয়জুর রহমান মাস্টার, নূর উদ্দিন মেম্বার, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আক্রাম আলী,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দার, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মাসুক, সাংবাদিক জেএম শামসুল, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হাফিজ বকুল, জুনাব আলী, গিয়াস উদ্দিন, আজিজুর রহমান, বাবুল আহমদ, সুফিয়ান আহমদ, মৃত আব্দুল মজিদ প্রমুখের প্রাণান্তকর চেষ্টায় নির্মিত হয় জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।তারপর সেই শহীদ মিনারই জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা লাভ করে। কিন্তু ছোট পরিসরে নির্মিত শহীদ মিনারের প্রতি আর নজর দেয়া হয়নি কারো।
জকিগঞ্জের অমর একুশের চেতনায় বই মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা আব্দুল আহাদ বলেন, গত বছরের বই মেলায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিন কথা দিয়েছিলেন যত টাকাই লাগুক তিনি শহীদ মিনার সংস্কারের উদ্যোগ নিবেন। তার আশ্বাস বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। সর্বত্রই পরিবর্তন আসছে কিন্তু আমাদের শহীদ মিনারে কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আক্রাম আলী বলেন, উদ্যোগের অভাবে জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংস্কার হচ্ছে না। যথাযথ উদ্যোগ নিলেই সেটি সম্ভব।
পৌর মেয়র উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো.খলিল উদ্দিন বলেন, পৌরসভার কোনো বরাদ্ধ পেলে শহীদ মিনার সংস্কারের উদ্যোগ নেব। স্থানীয় এমপি এ ব্যাপারে কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, যখন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল তখকার সময়ের জন্য এটি ঠিক ছিল। এরপর সময় অনেক গড়িয়েছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগে সবাইকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। একটা নকশা করে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার নির্মিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কুমার সিংহ বলেন, আমি জকিগঞ্জে নতুন এসেছি। শিগগিরই শহীদ মিনার পরিদর্শন করে শহীদ মিনার সংস্কারে উদ্যোগ নিব।
জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নবরুপে নির্মিত হলে নতুন চেতনায় উজ্জীবিত হবে গোটা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পটভূমি। এটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে সময়ের প্রবাহে ঐতিহ্যের সাথে আরেকটি গৌরব যুক্ত হবে বলে মনে করছেন জকিগঞ্জবাসী।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন, জকিগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করবে এটি। এ অঞ্চলের তাবৎ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বেগবান হবে যাকে কেন্দ্র করে।

     এ জাতীয় আরো খবর