,

জকিগঞ্জের পাগলিটা মা হয়েছে বাবা হয়নি কেউ !

জকিগঞ্জ:
জকিগঞ্জে ইদানিং অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা ঘটছে। বিচ্ছিন্ন এমনই একটি ঘটনা হলো জকিগঞ্জ বাজারের এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীু রোববার বিকেলে জকিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। পাগলির ছেলে সন্তানটি নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহী বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। নাম পরিচয়হীন এ পাগলির সন্তানের মা হলেও বাবা কে তা জানা যায়নি।
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালেদ আহমদ জানান, রোববার সকাল অনুমান ১১টার সময় একজন রিক্সাচালক মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ ঐ নারীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। ‘অপরিচিত’ লিখে ব্যথার রোগী হিসেবে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ওয়ার্ডে নেয়ার পর হাসপাতালের সেবিকারা বুঝতে পারেন পাগলিটা প্রসব ব্যথায় কাতরাচ্ছে। প্রায় চারঘন্টা হাসপাতালে সেবা শুশ্রƒষার পর বিকেল চারটায় পাগলি একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। শিশু সন্তানটির ওজন কম ও রক্ত শূন্যতা থাকলেও মা ও সন্তান মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র নার্স হাসিনা বেগম জানান, পাগলিটা তার নাম একেকবার একেকটা বলছে। রেহানা, সুমানা, সুমা বলতে পারলেও সঠিক নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। সে বাংলা ভাষার পাশাপাশি কিছু হিন্দিও বলতে পারে। ডা. খালেদ আহমদ জানান, পাগলির ছেলে সন্তানটি নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অফিসকে অবগত করেছে। অভিভাবকত্ব নেয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া গেলে আমরা লিখিতভাবে সমাজসেবা অফিসকে বাচ্চাটি হস্তান্তর করবো।  উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস জানান, যদি আমরা লিখিতভাবে বাচ্চাটি পাই তাহলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করে সিলেট জেলা সমাজসেবা পরিচালিত ‘বেবীহোমে’ রাখা হবে তাকে। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে একজনের নিকট সমঝিয়ে দেয়া হবে নবজাতককে। মানসিক ভারসাম্যহীন গাগলিটাকে জকিগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে ইতিপূর্বে। পাগলির মা হওয়াটা ‘টক অব দ্যা জকিগঞ্জ’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

     এ জাতীয় আরো খবর