,

জকিগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

জকিগঞ্জ:
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ করে নিয়োগ বাতিলের দাবীতে গতকাল জকিগঞ্জে মানববন্ধন করেছেন নিয়োগ বঞ্চিত প্রাথীরা। তারা অভিযোগ করেন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন এ নিয়োগে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
জকিগঞ্জ বাজারের এমএ হক চত্তরে মানববন্ধন পরবর্তী সংক্ষিপ্ত পথসভায় উপজেলা জাপা নেতা মুহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাহতাব আহমদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম রহুল আমিন, সমাজসেবক মাহতাব আহমদ, দপ্তরী পদে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী আব্দুল কাদির শাকিল আহমদ. সুহেল আহমদ, পারভেজ আহমদ, প্রদীপ চন্দ্র নাথ, মোশারফ হোসেন প্রমূখ। সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ফলাফলে মেধাবীদের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে তদন্ত করলে জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসবে। বক্তারা দপ্তরী পদের নিয়োগ পরিক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বাতিল চেয়ে পুণরায় সুষ্ঠ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ করতে আহবান জানিয়েছেন।
জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজু ইবনে হান্নানের লিখিত অভিযোগ পেয়ে রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজা নিয়োগ স্থগিতের ঘোষনা দেন। সিলেট সার্কিট হাউসে কানাইঘাটের শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ নিয়োগ স্থগিত রাখতে সিলেটের জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জকিগহ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। জকিগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিগণও অভিযোগ করেন, বড় অংকের লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগে কারসাজি করা হয়েছে। নিয়োগ কমিটির সদস্য সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি নোমান উদ্দিন চৌধুরী জানান, নিয়োগে আমাদের প্রদত্ত নাম্বার পরিবর্তন করে ইচ্ছেমত নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
নিয়োগ কমিটির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিনিধি এডভোকেট কাওছার রশিদ বাহার বলেন, নিয়োগ নিরপেক্ষ হওয়ার ব্যাপারে আমার পক্ষ হতে শতভাগ চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউ ম্যানেজ হয়ে থাকলে করার কিছু ছিল না। এ ব্যাপারে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করার আহবান জানান।
নিয়োগ কমিটির সভাপতি ইউএনও বিজন কুমার বলেন, নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি। নাম্বার পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তখন এই নিয়োগ বাতিল করাই উত্তম।
উল্লেখ্য, ১১,১২ ও ১৩ অক্টোবর জকিগঞ্জের ৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের জন্য ৩৫৬জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ১৩ অক্টোবর শনিবার রাত সাড়ে দশটায় ফলাফল প্রকাশ হয়।

     এ জাতীয় আরো খবর