,

জকিগঞ্জের মেধাবী ফাতেমার লক্ষ্য বিসিএস ক্যাডার হওয়ার

জাবির আহমদ, এমসি কলজে ::
প্রত্যাশা, প্রতিজ্ঞা আর পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি।এই তিন ‘প’ এর সমন্বয়ে গ্রামের পাঠশালা থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের পর শহরের নামী কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষায় বড় সফলতা পেয়েছেন জকিগঞ্জের নিভৃত পল্লীর এক নারী শিক্ষার্থী। নাম তার ফাতেমা জান্নাত চৌধুরী। সিলেট এমসি কলেজর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সদ্য অনার্স পাশ করা ফাতেমার বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামে। পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা শরীফা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষের চুড়ান্ত ফলাফলে ফাতেমা নিজ বিভাগে প্রথম হয়েছেন। তার সিজিপিএ (৪ এর মধ্যে) ৩.৭৭। এমসি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফলাফল।
জকিগঞ্জের সোনাসার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রথম এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থী হবার গৌরব আর্জন করেন ফাতেমা। হাফছা মজুমদার কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকেও জিপিএ-৫ পান ফাতেমা।
প্রিয় শিক্ষক আর বাবা মায়ের অনুপ্রেরণা আর নিজের সদিচ্ছায় পরীক্ষায় ভালো ফল হয়েছে বলে জানান ফাতেমা। মাধ্যমিকে খালেদ স্যারের উৎসাহ অনুপ্রেরণা ফাতেমাকে পড়াশুনায় মনোযোগী করেছে বলে জানান ফপাতেমা। উচ্চ শিক্ষার জন্য মেডিকেল কিংবা বিশ্বাবদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার কষ্টে ১ম বর্ষে ফলাফল একটু খারাফ হলেও পরে আর তা হয়নি।
কথার ফাঁকে বললেন কিছু ভিন্ন কথা! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা যেখানে টিউশনি পড়ায় ব্যস্ত সেখানে তিনি ১ম ও ২য় বর্ষে গণিত ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে টিউশনি পড়েননি তিনি। ফাতেমার বড় ভাই হাফেজ আব্দুস সামাদ চৌধুরী চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্তবর্ষের শিক্ষার্থী। বড় বোন নাজিয়া জান্নাত একই কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান থেকে অনার্স শেষ করেছেন। ছোট দুই বোন রহিমা জান্নাত চৌধুরী ও মাসুমা জান্নাত চৌধুরীও এমসি কলেজে পড়ছে। রহিমা রাষ্ট্র বিজ্ঞান ৩য় বর্ষে আর মাসুমা বিএ শ্রেণিতে। বড় ভাই আর মায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে ফাতেমা বলেন এগিয়ে যেতে চান বহুদূর। লক্ষ্য একটাই বিসিএস ক্যাডার হওয়া। সে লক্ষে পড়াশুনাও করছেন।চাচ্ছেন সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ।

     এ জাতীয় আরো খবর