,

জকিগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৪ প্রধান শিক্ষক ৭৪ সহ.শিক্ষকের পদ শূন্য

আল মামুন, জকিগঞ্জ:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৬৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা রয়েছে ৭৪টি সহকারী শিক্ষকের পদও । এ ছাড়া এক বছরের প্রশিক্ষণে পিটিআইতে রয়েছেন ২০ জন শিক্ষক। তাছাড়া বিনা অনুমতিতে দুইজন প্রধান শিক্ষকসহকর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন অন্তত ৫ জন শিক্ষক। বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কয়েকটি বিদ্যালয় চলছে দুএকজন শিক্ষক দিয়ে। ষাটইশাইল,শহীদপুর,সোনাপুর,কামালপুর(খ),চৌধুরীবাজার,গঙ্গাজল(খ),গর্দিশপুর,মাতারগ্রাম,সুরানন্দপুর,রসুলপুর গৌছআলী,মঙ্গলপুর,বিলপার ও বড়চালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য হয় অবসরজনিতকারণে।
চককোনাগ্রাম,খিলগ্রাম,নিদনপুর,শাহবাগ,পূর্বজামডহর,রঘুরাশি,নানকার,জামালপুর,কামালপুর(ক),নয়াগ্রাম(খ),রতনগঞ্জ,বেউর,মাদারখালেরপাড়,পাঠানচক,তিরাশি,ঘেচুয়া,মামরোকানী,মুন্সিবাজার,হাজীগঞ্জ,নবীগঞ্জ,বিয়াবাইল,নগরকান্দি,ভটপাড়া,রঘুরচক,ফুলতলী,নান্দ্রিশী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি শূন্য হয় বদলীজনিত কারণে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত জকিগঞ্জ উপজেলার ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদও শূণ্য রয়েছে। ১৫০০ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মোকদ্দছ মাজেদা চৌধুরী কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটিও খালি।
পুরকায়স্থপাড়া সরকারী প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন মির্জারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আহমদ, হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফিয়া বেগম, ষাইটশৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মারুফী সুরাইয়া(ইতালী), উত্তরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরিয়ম তাহমিনা, মামরখানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেলিম আহমদ (ফ্রান্সে)।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা মো. রফিজ মিয়া জানান-সরকারী নীতিমালা পরিবর্তন হবার পরে ২০১২ সালের অক্টোবরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় নিয়োগ প্রাপ্ত বহিরাগত ৩১ জন শিক্ষক নিজ নিজ জেলায় বদলী হয়ে যান।এ পদগুলি কবে পূরণ হবে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কর্মস্থলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জকিগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুস শহীদ তাপাদার বলেন, উপজেলার ১৩৮টি শিক্ষকের পদ শূণ্য হবার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ সব শূণ্য পদে শিক্ষক নিয়োগদানের জন্য দাবী জানাচ্ছি।
শিক্ষকের অভাবে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা মারাত্বক ব্যাহত হচ্ছে। কামালপুর (ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে। গর্দিশপুর,পুরকাস্থপাড়া, সোনাপুর সহ অনেক বিদ্যালয় চলছে মাত্র দুইজন করে শিক্ষক দিয়ে। কামালপুর(ক) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুবের আহমদ জানান তার বিদ্যালয়ে ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পতাকা টানানো, ঘন্টা বাজানো থেকে শুরু করে হাজিরা ডাকা, উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ , জরিপ,সভা সমাবেশে যোগদান এবং শিশু শ্রেণী-পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো সবই তাকে একা করতে হয়।

     এ জাতীয় আরো খবর