,

জকিগঞ্জে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম সালাম মেম্বার

জকিগঞ্জ(সিলেট)::
সিলেটের জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য চারিগ্রামের মৃত মহিবুর রহমান ঢালইর পুত্র আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে জুলুম নির্যাতন,দখলবাজি, নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা অভিযোগ উঠেছে । তার বর্বরতার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, একই ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের গ্রামের বাসিন্দা ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য এবাদুর রহমানের বাড়িতে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে এক যুবকের হাত পা বেঁধে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে পায়ের নীচে বেধড়ক মারপিট করছেন ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম। ওদিকে নির্যাতনের শিকার যুবক চিৎকার, চেচামেচি ও বাঁচার আকুতি করতে দেখা যায়। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মীর মো.আব্দুন নাসের জানান, নির্যাতনের শিকার ্ওই যুবকের নাম গিয়াস উদ্দিন(৩৫)। তিনি কাজলসার ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের মৃত সফর আলীর পুত্র। ঘটনাটি প্রায় মাস তিনেক আগের। ভিডিওটি ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। এছাড়াও সালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে পুলিশ নানা অপরাধের সংবাদ পেয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইউপি সদস্য এবাদুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান নামে তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে এবং আব্দুস সালামকে আটকের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার গিয়াস উদ্দিন জানান, তাকে প্রায় আটক শাহজান গিয়াসেরনিকট থেকে ২৫শ টাকা ধার নিয়েছিল। সে টাকা ফেরত না দেওয়ায় শাহজাহানের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় গিয়াস। এই মোবাইল নেয়াকে চুরি হিসেবে উল্লেখ করে শাহজাহান ও আনোয়ার গিয়াসকে ধরে এবাদ মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই সালাম মেম্বার মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালান। গিয়াস জানায় প্রায় দেড় ঘন্টা নির্যাতন করা হয়েছে তার উপর।
গত ১০ নভেম্বর আটগ্রামের আশ্রয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বিতুলকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আতœহত্যা বলে চালিয়ে দেন সালাম মেম্বার। নিহত বুতুলের চাচাত ভাই শাকিল আহমদ পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও আজ অবধি মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগে সালাম মেম্বারের নানা অপকর্মের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরে বলা হয়, সালাম মেম্বার আশ্রয়ন কেন্দ্রটি তার কব্জায় রেখে নারী ও মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছেন। স্থানীয় পুলিশের সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। কেউ সালাম মেম্বারের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি তাদের শায়েস্তা করেন বিভিন্নভাবে। ইতিপূর্বে অভিযোগকারীকে মারধোর করে বসত ঘরে আগুন দিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার নিহত ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল সালাম মেম্বারের। উক্ত ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে জীবন দিতে হয়েছে। জকিগঞ্জ আশ্রয়ন কেন্দ্রের একাধিক বাসিন্দা জানান, আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি ঘর প্রায় ছয় বছর ধরে দখলে রেখে সেখানে নারীদের দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন। সরকারি জায়গা ও কেন্দ্রের পুকুর দখল করে তার অপকর্মের সাথীদের মাঝে বিতরণ করে দিয়েছেন। আশ্রয়ন কেন্দ্রের যে কোনো নারীর প্রতি তার দৃষ্টি পড়লে সে শক্তি প্রয়োগ করে তাদের সাথে সে অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য হতো। সংখ্যালঘু পরিবারের এক সদস্য জানান, সালাম মেম্বারের নির্যাতনে তার ভাই ১০ বছর যাবৎ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন নির্যাতনের ভিডিওটি আগের হলেও আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাছাড়া অন্য কোনো ভুক্তভোগী মামলা করলেও আমরা সে মামলাও আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সালাম মেম্বারের ভাইয়ের স্ত্রী রেহানা বেগম দাবী করেন, সালাম মেম্বার একজন ভালো মানুষ, এলাকার অনেক মানুষের সামনে একজন চোরকে তিনি পিটিয়েছেন। সবাই অপরাধ করলো এখন শুনি দোষী শুধু সালাম মেম্বার। আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নারী রাখা ও গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের নির্যাতনের কথা তাদের জানা নেই বলে তিনি জানান।

     এ জাতীয় আরো খবর