,

জকিগঞ্জে সুরমার ভাঙ্গনে কষ্টে আছেন ৩টি গ্রামের মানুষ

জকিগঞ্জ ১.১১.২০১৭::
জকিগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সীমান্ত নদী সুরমার ব্যাপক ভাঙ্গনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের সুরানন্দপুর, রসুলপুর ও হরাইত্রিলোচন গ্রামের মানুষ। সুরমা নদীর একেরপর এক ভাঙ্গনে হারিয়ে যাচ্ছে সুরানন্দপুর গ্রামের বিস্তৃত জনপদের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অদৃশ্য হচ্ছে স্মৃতিময় পথঘাট। নদীর আঁকাবাঁকা পথচলা এক অপরূপ সৌন্দর্য হলেও বিরামহীন নদী ভাঙ্গনে বিনষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, গাছপালা, বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মানুষের বসতভিটা প্রভৃতি। ছোট হয়ে আসছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা। এপার ভেঙ্গে ভারতের অংশ ভরাট হচ্ছে। আর এতে নিরূপায় হয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুরানন্দপুর, রসুলপুর ও হরাইত্রিলোচন গ্রামের মানুষের জেলা ও উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা সুরমা ডাইক ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কয়েকশ মিটার ডাইক ভেঙ্গে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে করে এ অঞ্চলের প্রায় দশ হাজার মানুষ যোগাযোগ ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়েছেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষগুলোর যাতায়াতের জন্য কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। নদী ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই, ফলে অনিশ্চিত অবস্থায় সুরানন্দপুর গ্রামের মানুষকে বসবাস করতে হচ্ছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে উপর মহলের কোন পদক্ষেপ নেই। তবে শনিবার সরেজিম পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাহিদুল করিম।
সুরানন্দপুর গ্রামের মুসলিম আলী বলেন, বিগত দিনে নদী ভাঙ্গনে এ এলাকার ঘরবাড়ী, গাছপালা, ফসলি জমি, বিভিন্ন স্থাপনা ও বসতভিটা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। ভূমিহীন হয়েছেন প্রায় শতাধিক পরিবার। তিনি সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে বসতঘর, ফসলি জমি, গাছপালা, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সদস্য ও সুরানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সওদাগর সেলিম বলেন, দীর্ঘ কযেক মাস থেকে সুরানন্দপুরসহ ৩টি গ্রামের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তা থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। অনেক যোগাযোগের পর শনিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন ভয়াবহ ভাঙ্গন ও এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার নয়। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃকপক্ষকে অবহিত করেছি। ঠিক একই কথা জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব হোসেন চৌধুরী। তবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান।
এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাহিদুল করীম বলেন, আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে যথা শীঘ্রই ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

     এ জাতীয় আরো খবর