,

জকিগঞ্জে ৩৯ স্কুলে দপ্তরী কাম প্রহরীর জন্য ৩৫৬ প্রার্থী

জকিগঞ্জ  ::
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ৩৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার এই তিন দিনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলার ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯টি পদের বিপরীতে ৩৫৬জন প্রার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। এই নিয়োগে টাকা পয়সা লেনদেনের কথা বাতাসে ভেসে বেড়ালেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ নিরেপক্ষ ও স্বচ্চ। কোনো রকম তদবীরের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া যাবে না।
বাছাই ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, ৩৯টি স্কুলের মধ্যে সর্বনি¤œ ৪ জন এবং সর্বোচ্চ ২৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। ১১ অক্টোবর মামরখানি, গর্দিশপুর, টগরঠাকুর, কামালপুর ক, বারঠাকুরি, সুলতানপুর, দাউদপুর,সোনাপুর, তিরাশি, নগরকান্দি,গদাধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৌখিক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার ১২ অক্টোবর বড়কাপন, মির্জারচক, মঙ্গলপুর, শাহাজালালপুর, কামালপুর খ, নোয়াগ্রাম ক, রঘুরচক, নরসিংহপুর, উত্তরভাগ, সবড়িয়া, বাদেদেওরাইল, নানকার, পূর্ব জামডহর, বাটইশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৩ অক্টোবর শনিবার যশা, উত্তর জিয়াপুর, ঘেচুয়া, বারাখুলি, ষাইটষৌলা, বিলপাড়, নীলাম্বরপুর, ইছামতি খ, ফুলতলী ,জিয়াপুর, দরিয়াপুর, এলংজুড়ি, গঙ্গাজল খ, সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী হচ্ছে নীলাম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ জন, তিরাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৩ জন এবং গর্দিশপুর সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। নিয়োগ কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। প্রত্যেকের হাতে ২০ করে নম্বর রয়েছে। নিয়োগ কমিটির ৬ সদস্যের নম্বরের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে । চাকরির যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি হলেও আবেদন করেছেন করেছেন এইচএসসি, ডিগ্রি ও মাস্টার্স উত্তীর্ণরাও।

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে বলে মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। সর্বনি¤œ ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ আড়াই তিন লাখ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে নিয়োগ কমিটির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট কাওছার রশীদ বাহার বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই সঠিক লোককে নিয়োগ দেয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ কাউকে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন না করার জন্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রিকায় বক্তব্য দিয়েছেন ।
বাছাই ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ বলেন, পরীক্ষা নিয়ে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থীদের চাকুরীতে প্রবেশের সুযোগ দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন বলেন, অনৈতিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ নিয়োগে আমার পছন্দ বা অপছন্দ নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে যে প্রার্থী নির্বাচিত হবে তাকেই নিয়োগ দেয়া হবে।

     এ জাতীয় আরো খবর