,

জকিগঞ্জ পৌরসভার আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে

আল মামুন, জকিগঞ্জ  ::
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জকিগঞ্জ পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছরের শেষ দিকে জকিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা । বর্তমান মেয়রের কাজ নিয়ে চলছে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে কৌতুহল একটু বেশি। জকিগঞ্জ পৌরসভা চতুর্থ মেয়র নির্বাচনে আ্ওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হিসেবে হাজী খলিল উদ্দিন ১৫৩০ ভোট পেয়ে গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে তার নিকটতম হওয়া আল ইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছিলেন ১৩৭১ ভোট। আ্ওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ জগ প্রতীকে পেয়েছিলেন ১৩৪৩ ভোট। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জাফরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ১২৫৩ ভোট, জাপার আব্দুল মালেক ফারুক পেয়েছিলেন ১২৪৮, বিএনপির অধ্যাপক বদরুল হক বাদল পেয়েছিলেন ১২০৩ ভোট।
আগামী নির্বাচনেও বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সহসভাপতি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.খলিল উদ্দিন দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমেরিকা প্রবাসী এডভোকেট এমাদ উদ্দিন আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। কিছুদিন আগে তিনি দেশে এসে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করে গেছেন। সাবেক প্রয়াত মেয়র আনোয়ার হোসেন সুনা উল্লাহর পুত্র সাবেক কাউন্সিলর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল আহাদ গত নির্বাচনেই দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে সে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। আগামী নির্বাচনে তিনিও দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। গত নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ এবারো দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএজি বাবর বলেন, আমি গ্রাম ও দলের সমর্থণ পেলে মেয়র পদে নির্বাচন করবো। উপজেলা কমিটির অপর যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহমদ বলেন, গত নির্বাচনেও আমি প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। দলের মনোনয়ন পাইনি। এবারো দলীয় মনোনয়ন চাইবো। তবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন রার ইচ্ছা নেই আমার। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালামও এবার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। পৌর কাউন্সিলর ও প্যানল মেয়র কামরুজ্জামান কমরুও দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শুনা যাচ্ছে। পৌরসভা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূমও দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করবেন বলে জানান।
আগামী পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে তা নিয়ে রয়েছে জিজ্ঞাসা। কেউ বলছেন বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বদরুল হক বাদলই বিএনপির প্রার্থী হবেন। কেউ বলছেন বিএনপি এবার নতুন মুখ হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কাওসার রশিদ বাহার কিংবা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হিরাকে প্রার্থী করা হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন সাবেক মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদকেও শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।
গত নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আল ইসলাহর স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান আগামী নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির পৌরসভা কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক ফারুক। মাঠে থাকতে পারেন গত নির্বাচনে খেলাফত মজলিস থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সোনার বাংলা সমবায় সমিতির সভাপতি মো.জাফরুল ইসলাম। এ ছাড়াও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক, পৌরসভা আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী শামসুদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহমান লুকু ও জামায়াত নেতা ইমরান আহমদও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন।
মেয়র খলিল উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান পরিষদ শপথ নিয়েছিল। সেই থেকে আমরা প্রায় ৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। আরো প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ঈদগাহর মাঠ, রাস্তার আশপাশ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, ড্রেণ নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ চলছে। ১৯৯৯ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হবার পর এবারই সর্বোচ্চ টাকার কাজ হয়েছে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবার বিষয়ে মেয়র বলেন, জনগণ ও দল চাইলে প্রার্থী হবো ব্যক্তিগতভাবে আমার নির্বাচন করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।
কাজী হিফজুর রহমান বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দীর্ঘ ২১ বছরেও জকিগঞ্জ পৌরসভা ‘গ’ শ্রেণিতেই রয়ে গেছে। গ্রাম্য কাঠামোর পৌরসভায় এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান তেমন পরিবর্তন আসেনি। পৌরবাসীর অনেকেরই প্রত্যাশা আমি যেন আাগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হই। পৌরসভার মান উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির জন্য আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণের সদিচ্ছা রয়েছে।
ফারুক আহমদ বলেন, দলের জন্য সব সময় কাজ করতে সচেষ্ট রয়েছি। জনগণ আমার মূল শক্তি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো।
জাফরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে এখনো চিন্তা করিনি। জনগণ চাইলে নির্বাচন করবো। পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবো।
সাবেক মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক বলেন, ক্ষণিকের জন্য মেয়র হয়ে চেষ্টা করেছিলাম দৃশ্যমান কিছু কাজ করার জন্য। পূর্ণমেয়াদের জন্য মেয়র হতে পারলে পৌরবাসীর জীবন মান ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো। তাই জনগণের সহযোগিতা পেলে আগামীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।
বদরুল হক বাদল বলেন, গত দুইটি নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। গত নির্বাচনে আমি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছি। আগামীতেও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার প্রত্যাশা রয়েছে ।
সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, আগামী পৌরসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আমার ইচ্ছা নেই। যদিও আমার অনেক শুভার্থী আমাকে নির্বাচন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, গত ২১ বছরে জকিগঞ্জ পৌরসভার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমি বেশ কিছু কাজের সূচনা করেছিলাম। পরে নানা কারণে আশানুরোপ কাজ হয়নি এখানে। তাই পৌরবাসী হতাশ। জকিগঞ্জ পৌরসভার গত নির্বাচনে মোট ১০৪০৭ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছিল ৭৮৮৪। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১২৬৫৮ জন এর মধ্যে পুরুষ ৬২৪৬ মহিলা ৬৪১২ জন। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাদমান সাকিব বলেন, যখনই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পাবো সে অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

     এ জাতীয় আরো খবর