,

জকিগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওর্য়ার্ডে চার প্রার্থীর ভোটযুদ্ধ কাল

জকিগঞ্জ ::
জকিগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২ নং ওয়ার্ডের উপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তরুণ সংগঠক মাসুদ আহমদ (উটপাখী), সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মাহমুদুর রহমানের পুত্র রওশন আলম বাদল(টেবিল ল্যাম্প), ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজমুল ইসলাম(পানির বোতল), ও উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুস শহীদ(পাঞ্জাবী) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পৌরসভার হাইদ্রাবন্দ ও আলমনগর গ্রাম নিয়ে ২নংওয়ার্ড গঠিত । বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মালেক ফারুকের ওয়ার্ড এটি। জকিগঞ্জ থানা, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ভরণমডেল প্রাইমারী স্কুল, ডাক বাংলো, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ রয়েছে ২ নংওয়ার্ডে।এ ওর্য়াডে ভোটার সংখ্যা ১১৬৪। এর মাঝে হাইদ্রাবন্দে ৫৪৭ এবং আলমনগরে ৬১৭ ভোট রয়েছে। এদের মাঝে বহিরাগত ভোটার রয়েছেন শ’খানেক। ভোট কেন্দ্রের নাম ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা, আলমনগর। ২ নংওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মালেক ফারুক ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবরের উপ নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় ১১ মাস এ ওয়ার্ডটি ছিল কাউন্সিলরবিহীন। ২০১১ সালের দ্বিতীয় পৌরসভা নির্বাচনে বজলুর রহমান বাবুল ফুটবল প্রতীক নিয়ে আব্দুল মালেক ফারুকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। জকিগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুক আহমদ চৌধুরী গত বছরের ১২ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রওশন আলম বাদল। বাদলকে এবারের নির্বাচনেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে।
বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী রওশন আলম বলেন, বাবা চেয়ারম্যান ছিলেন। ছোট বেলা থেকে দেখেছি কিভাবে মানুষের সেবা করতে হয়। ওয়ার্ডবাসী একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে চায়। নির্বাচিত হলে রাস্তা মেরামত, জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধানে আন্তরিক চেষ্টা করবো।
তরুণ প্রার্থী মাসুদ আহমদ বলেন, ওয়ার্ডবাসীর ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। এলাকার নারী, পুরষ, তরুণ, যুবক সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক সারা পাচ্ছি। ইনশাল্লাহ বিজয় আমার সুনিশ্চিত। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর পরামর্শক্রমে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামগ্রিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রয়াস অব্যাহত রাখবো। সমতা ভিত্তিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবো। প্রার্থী নজমুল ইসলাম বলেন, এই ওয়ার্ডের মানুষের সাথে আমাদের আতœার সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচিত হলে ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলের সেবক হিসেবে কাজ করবো। ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আব্দুস শহীদ বলেন, এলাকাবাসীর পরামর্শে আমি প্রার্থী হয়েছি। উন্নয়ন কাজ করার মতো সদিচ্ছা ও সাহস রয়েছে আমার। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর সকলের কাউন্সিলর হতে চেষ্টা করবো। প্রয়াত মাসুক চৌধুরীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আন্তরিক থাকবো।
২নংওয়ার্ডে নানা সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। এখনো অধিকাংশ রাস্তায় সড়ক বাতি নেই। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থাও। শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় মারাত্বক পানি সংকট। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় আটকা পড়েন ঠাকুরপাড়া ও আলমনগরের মানুষ। বন্ধ রাখতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ড্রেনেজব্যবস্থা নেই বল্লেই চলে। রাস্তা ঘাটেরঅবস্থা খুবই নাজুক। নির্বাচন সামনে আসলে এলাকাবাসী এসব সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেন কিন্তু তাদের সমস্যার সমাধান হয় কমই। ২৯ মার্চ সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। কে শেষ হাসি হাসেন সেটা দেখার জন্য সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

     এ জাতীয় আরো খবর