,

তার্কি মোরগের খামার করে সফল বিদেশ ফেরত জকিগঞ্জের মতিউর

আল মামুন, জকিগঞ্জ(সিলেট)::
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে জকিগঞ্জের মতিউর ১৯৯৯ সালে গিয়েছিল সৌদি আরব। সেখানে তিনি কাজ করতেন নির্দিষ্ট বেতনে। ওই বেতনে খাওয়া পরা মোটামুটি সম্ভব হলেও সব সময় ভাবতেন বাড়তি আয়ের জন্য কিছু করা নিয়ে। এক পর্যায়ে পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। সেখানেই ১ মাসের একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তার্কি মোরগ পালনের উপর।
সিঙ্গাপুরে ভালো আয় রোজগার করতে না পারায় ২০১৬ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেন তার্কি মোরগের খামার করার।
ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে ৫ মাস বয়সের ১৮ জোড়া তার্কি ক্রয় করেন । প্রথমে তার্কি পালনে কিছুটা অসুবিধা হলেও আস্তে আস্তে তার্কি মোরগদের পরিবারের সদস্যের মতোই লালন পালনে অভ্যস্ত হয়ে যান মতিউর। সন্তানের মত করে পরিচর্যা করে এসব তার্কি বড় করেন। রপ্ত করেন তার্কির ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর কায়দাও। পর্যায়ক্রমে খামারের তার্কির সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে মতিউরের খামারে বিভিন্ন জাতের তার্কির সংখ্যা এখন ৩৫০। যার মূল অনুমান ৭ লক্ষ টাকা। গত এক বছরে তিনি প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার তার্কির বাচ্চা বিক্রি করেছেন জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলা কালীগঞ্জের আবু বকর, খলাদাপনিয়ার প্রবাসী নিজাম উদ্দিনসহ অনেককেই মতিউর তার্কির খামার করতে উৎসাহিত করেছেন। আগ্রহীদের জন্য আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে জকিগঞ্জের কালীগঞ্জে তার্কি মোরগ পালনের উপর এক সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন মতিউর। মতিউর বলেন, তার্কি মোরগ ক্রয়, ঘর তৈরী, ইনকিউবেটর( ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর মেশিন) কেনা, মোরগের খাবার , ঔষদপাতি সব মিলিয়ে গত দুই বছরে যে টাকা খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি টাকার মোরগ রয়েছে এখন আমার খামারে। আমি বিদেশ গিয়ে যা করতে পারিনি দেশে মাত্র অল্প দিনেই এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পেরেছি। তার্কি মতিউর হিসেবে অনেকেই চিনে আমাকে। এতে আমারপরিচিতি ও অর্থ দুটোই বাড়ছে।
খামারে যোগ করেছেন উন্নত জাতের দেশি বিদেশি মুরগি। খামারটিকে সমপ্রসারণে তৈরি করছে নতুন ঘর। তিনি এই খামার থেকে বিক্রির পাশাপাশি আগ্রহীদের কাছে বাচ্চা সরবরাহ করে আসছেন। প্রবাস ফেরত খামারী মতিউরের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মোরগীর মতই লালন পালন করা যায় তার্কি মোরগ। তবে খামার করতে বাড়তি প্রস্তুতি লাগে। ২৮ দিনে ডিম থেকে বাচ্চা হয়। ব্রয়লার মোরগের মতো দ্রুত বাড়ে এটি। প্রতিটি মোরগ বছরে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়।
৬ মাস বয়সী এক জোড়া তার্কিও দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। দানাদার খাবার ছাড়াও কচুরিপানা, ঘাস, লতাপাতা সবই খায় তার্কি মোরগ। একেকটা পূর্ণ পুরুষ তার্কি মোরগিতে মাংস হয় ৬-৭ কেজি। এর মাংস সুস্বাদ ।
মতিউর জানান,কৃত্রিম প্রজনেন মাধ্যমে তার্কিও বাচ্চা উৎপাদন এখন মতিউরের স্বপ্ন। সনাতন পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটাতে খরচ বেশি এবং কষ্টদায়ক। তিনি বলেন কাঙ্খিত পূঁজির অভাবে তিনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে যেতে পারছেন না। সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে তিনি তার্কি পালনে দেশের মধ্যে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন।
এই খামারী বলেন তার্কি পালনের মাধ্যমে অনেক পরিবার স্বাবলম্বি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দরকার সরকারের সহযোগিতা। সহজ শর্তে খামারীদের ঋণ দিয়ে সুযোগ দেয়া হলে খামারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। প্রবাস ফেরত মতিউর বলেন সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী ব্যাংক ও বেকারদের পুনর্বাসনের সহায়তায় কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করছেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দেশী ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে প্রতিটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কুমার সিংহ বলেন, শিগগিরই খামারটি পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেব।

     এ জাতীয় আরো খবর