,

পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে —নিহত সাইফুলের ভাই খায়রুল

জকিগঞ্জ ১৬.১০.২০১৭::
নিখোঁজের তিন দিন পর সোমবার সকালে ইছামতি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল আলমের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ। সে ছালেহপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল খালিকের ছেলে। তিন ভাইর মধ্যে সাইফুল দ্বিতীয়।
সাইফুলের পরিবাদের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে সে বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার সকালে বাড়ীর পাশের একটি খাল থেকে দূর্গন্ধ ছড়ালে লোকজন সেখানে গিয়ে কাঁদামাটিতে চাপা দেয়া অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করলে একদল পুলিশ লাশ সাইফুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে। নিহত সাইফুলের বড় ভাই খাইরুল আলম জকিগঞ্জ নিউজকে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। খাইরুল জানান, পাশের গ্রাম নিয়াগুলে তাদের পুরাতন বাড়ি। সে বাড়িতে একটি আধা পাকা ঘর রয়েছে। সে বাড়িটি নিয়াগুলের একটি পক্ষ খাইরুলদের কাছ থেকে কিনে নিতে চাইছে। বাড়ি বিক্রি করার জন্য তাদের একাধিকবার প্রস্তারও দিয়েছে। খাইরুলরা বাড়ি বিক্রি না করায় ্ওই পক্ষ বাড়ির দরজা জানালা ভেঙ্গে দেয় এক সময়। খাইরুলের মা সে বাড়িতে থাকতেন। প্রতিপক্ষের উৎপাতে তিনি সে বাড়ি ছেড়ে আসতে বাধ্য হন। সেখানে খায়রুলদের এ একর ৬ শতক জমি রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধেই তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
এ দিকে সাইফুলের হত্যাকান্ড নিয়ে পুরো উপজেলায় প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। কিভাবে সাইফুলের মৃত্যু হয়েছে তা নিয়েও হচ্ছে নানা আলোচনা। কেউ বলছেন সাইফুল সকালে পলিথিনের ব্যাগ হাতে নিয়ে খালে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কেউ বলছেন নিহত সাইফুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করলেও কল লিস্ট পরীক্ষা করা যেতে পারে। নিহত সাইফুল বলছেন তার ভাই মোবাইল ব্যবহার করতেন না। জকিগঞ্জ থানার এসআই সৈয়দ ইমরোজ তারেক বলেন, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সাইফুলের নিহত হবার কারণ জানা যাবে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার বলেন, যারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খোজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় ইছামতি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খুনিদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেছে।
মঙ্গলবার ইছামতি কলেজে শোক সভা: প্রিয় শিক্ষার্থীকে আকষ্মিক হারিয়ে ইছামতি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকরা হতবাক ও মর্মাহত। কলেজ অধ্যক্ষ মো.জালাল আহমদসহ শিক্ষকরা নিহত সাইফুলের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার ইছামতি ডিগ্রি কলেজে শোক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

     এ জাতীয় আরো খবর