,

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ছুটি-ভাতা অনলাইনে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যারে মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইনে করার সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। শিক্ষক বদলিতে ঘুষ-দুর্নীতি, হয়রানি ও তদবির বন্ধে এখন থেকে অনলাইনে আবেদনও নিষ্পত্তি করা হবে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধদিতে বদলি হওয়ার যোগ্যতা বা শর্তও চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী মাস থেকেই নতুন পদ্ধতিতে বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি এব ভাতাও অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিপিই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম (বিদ্যালয়) আজকালের খবরকে বলেন, শিক্ষক বদলির সফটওয়্যার ডেভলমেন্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা চালু করব। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক বদলির নীতিমালা আগে থেকেই ছিল। সেটি সংশোধন করার উদ্যোগ নিলেও পরে সরে এসেছি। কোন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে সেসব তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। অলরেডি সফটওয়্যারে আমরা ইনপুটও দিয়েছি। অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে এখন থেকে বদলি করা হবে। কবে থেকে চালু করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিপিইর ডিজিকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।
ডিপিই ডিজি মো. ফসিউল্লাহ আজকালের খবরকে বলেন, সফটওয়্যার করে ফেলেছি। এখন শুধু ডেসিমেনেশান হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সেটি করে ফেলব। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলি কার্যক্রম যেকোনো সময়ে চালু করা হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষকদের বদলির জন্য উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আন্তঃবিভাগ ও সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলে বদলির জন্য ডিপিইতে আবেদন করতে হয়। ফলে প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শিক্ষকদের বদলির তদবিরে অতিষ্ঠ থাকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষকরা পছন্দের স্কুলে বদলি হতে মন্ত্রী, এমপি, সরকারি উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শিক্ষক নেতাদের কাছে ধরনা দেন। এক শ্রেণির দালালও তৈরি হয়েছে। বদলি নিশ্চিত করতে বহু শিক্ষক ক্লাস ফেলে মন্ত্রণালয় ও ডিপিইতে তদবির করতে ভিড় করেন। হয়রানির পাশাপাশি মোটা অঙ্কের ঘুষও দেন শিক্ষকরা।
সূত্র জানায়, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সারা বছরই শিক্ষকদের বদলি করা হবে। বদলির আবেদনে শিক্ষকরা পদায়নের জন্য পছন্দের তিনটি কর্মস্থলের নাম দিতে পারবেন। একটি কর্মস্থলে একজন শিক্ষককে কমপক্ষে তিন বছর থাকতে হবে। এরপর শূন্য থাকা সাপেক্ষে তিনটি বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। জেলা সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলি হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে চাকরিজীবনে এ ধরনের সুযোগ একবার নেওয়া যাবে। উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের বাইরে থেকে সর্বাধিক ১০ শতাংশ শূন্য পদে সংশ্লিষ্ট শহরে বদলি হওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলার বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে বদলি শিক্ষকদের হালনাগাদ তালিকা রেজিস্টারে সংরক্ষণ করবেন। তবে বৈবাহিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
প্রতিবন্ধী শিক্ষক, নদীভাঙন অথবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষকের বসতভিটা বিলীন হলে ও শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া বিভাগীয় অথবা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, বিবাহ বিচ্ছেদজনিত মামলা থাকলে একবার এ সুবিধা পাবে। এছাড়া প্রশাসনিক কারণে বদলি, সমন্বয়, পারস্পরিক সমঝোতায়, সংযুক্তি, বিশেষ কারণে বছরজুড়ে সুবিধামতো যেকোনো স্থানে বদলি হওয়া যাবে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের উপজেলার তফসিলভুক্ত দুর্গম এলাকার স্কুলে কমপক্ষে ছয় মাস চাকরি করতে হবে। এসব এলাকায় চাকরির অভিজ্ঞদের বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে পার্বত্য তিন জেলার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না।
প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৯ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলায় বদলি স্থগিত করা হয়।
শ্রান্তি বিনোদন ছুটি অনলাইনে : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ও ছুটি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিধি অনুযায়ী তিন বছর পরপর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষকরা পেশাগতভাবে ভ্যাকেশনাল হওয়ায় সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো বছরের যেকোনো সময় এ ছুটি ভোগ করতে পারেন না। টানা ১৫ দিন সরকারি ছুটি থাকলেই ওই সময়কে শিক্ষকরা শ্রান্তি বিনোদনের ছুটি দেখিয়ে ভাতা তুলতে পারেন। এ জন্য শিক্ষকদের রমজানের ছুটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক শিক্ষকের প্রাপ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে রমজানের ছুটি না থাকায় বঞ্চিত হন। আবার অর্থ বরাদ্দ কম থাকায় বহু শিক্ষক ভাতা বঞ্চিত হন। বছরের যেকোনো সময় নন-ভ্যাকেশনাল সরকারি চাকরিজীবীদের মতো চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষকরা নেতারা। এ হয়রানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে ডিপিই।
জানতে চাইলে ডিপিই ডিজি মো. ফসিউল্লাহ আজকালের খবরকে বলেন, শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে অনেক অসন্তোষ আছে। আমরা বরাদ্দ কম দেই। এ নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে দলাদলি হয়। নানা ধরনের ঘটনা ঘটে। কিছু শিক্ষক পায়, কিছু শিক্ষক বঞ্চিত হয়। বৈষম্য দূর করতে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করবেন। তারা বিল করবে সে অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে। জুলাই মাসের মধ্যেই এটি চালু করব।

     এ জাতীয় আরো খবর