,

বন্যা দূর্গতদের দূরবস্থা : আমাদের করণীয়

মাওলানা মখলিছুর রহমান::
সিলেট জেলার জকিগন্জ ও কানাইঘাট উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দুই লক্ষাধিক মানুষের আরামের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে থাকার সুবাদে মানুষের দূর্ভোগ-দুর্দশার চিত্র স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছে।দূর্গত মানুষের এই অবস্থা দেখে নিজেকে ধরে রাখা খুবই কঠিন।নিজের সামর্থ খুবই সীমিত থাকায় প্রবাসে অবস্থানরত পরিবারের সদস্য ও আতœীয়-স্বজনের সাথে দুখী মানুষের কথা শেয়ার করতেই যার যার সাধ্যানুযায়ী অনেকেই তাৎক্ষনিক সাড়া দিয়েছেন।বিশেষ করে আমেরিকা প্রবাসী আমার চাচা ডা: সিরাজ উদ্দিন এমডি,জনাব জালাল উদ্দিন,চাচাতো বোন রায়হান আক্তার,চাচাতো ভাই মাওলানা মুহী উদ্দীন,ডা:খালেদ মাহমুদ উদ্দীন, ফুফাতো ভাই ডা:জহরুল ইসলাম প্রমূখ আমার মেসেজ পেয়ে পেরেশান হয়ে সামর্থানুযায়ী সহায়তা পাঠান।তাদের পক্ষ থেকে গতকাল আমার গ্রাম মাইজকান্দী,পূর্ব মাইজকান্দী,পঙ্গবট, বিলেরবন্দ ও শৈষ্যকুড়িসহ আশপাশ এলাকার প্রায় ১৬০ দূর্গত পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ তুলে দেই।এতে সর্বাতœক সহযোগীতা করেন আমার ফুফাতো ভাই জনাব হেলাল আহমদ,চাচাতো ভাই জনাব কমর উদ্দিন বাবর,পৌর কাউন্সিলর আতাউর রহমান আতাই,মাইজকান্দী বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী জনাব ফারুক আহমদ প্রমূখ।আমার প্রবাসী স্বজনরা দূর্গতদের সহায়তায় আরো প্রকল্প হাতে নেয়ার জন্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন।বিশেষত Uddin Family Foundation (UFF)’র পক্ষ থেকে দূর্গতদের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব ডা:সিরাজ উদ্দিন এমডি।ছোট বোন রায়হান আক্তারও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।অন্যান্যরাও যার যার অবস্থান থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তাছাড়া ২/১ দিনের মধ্যে জকিগন্জ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অব মিশিগান,আমেরিকার পক্ষ থেকেও পুরো উপজেলার দূর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ তহবিল স্থানান্তরের কথা জানিয়েছেন সোসাইটির সেক্রেটারী ভগ্নিপতি মনজুর আহমদ।জকিগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ইউএস ইনকও বন্যা দূর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব আবিদুর রহমান।তারাও দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য রাত দিন কষ্ট করছেন।
গতকাল প্রথম দফা দুর্গতদের সাহায্য করতে যেয়ে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়েছে।১৫০ জনের লিস্ট করে কার্ড পৌছিয়েছি।উপস্থিত প্রায় দুইশতাধিক বুভুক্ষ মানুষ।কষ্ট করে আরো ১০/১৫ জনকে সাহায্য করে অবশিষ্টদের নাম লিখে রেখেছি,দ্বীতীয় পর্বে যা পাবো;তা দিয়ে এসব মুখাপেক্ষীদের মুখে পানি দেয়ার চেষ্টা করবো এই আশায়।এসব মানুষের মুখে দুর্দশার কাহিনী শুনে বাঁকরুদ্ধ হয়ে গেছি।কারো কাঁচা ঘর বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে কিংবা ধসিয়ে ফেলেছে।অনেকের সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে।ঔষধ ক্রয়ের সামর্থ হারিয়ে ফেলেছেন।কারো তিলে তিলে সন্চিত সমস্ত সন্চয় দিয়ে আপন পুকুরে ফেলা মৎস পোনা ভাসিয়ে নিয়েছে।স্বপ্ন ছিল,এগুলো বড় হলে সংসারের প্রয়োজন মিটবে এবং উদ্ধৃত অংশ বিক্রয় করে বাড়তি আয় হবে।কারো ক্ষেতের ফসল ভাসিয়ে নিয়েছে,ফসল ফলাতে সন্চিত সন্চয় ব্যয় হয়ে গেছে।এখন কপর্দকহীন।আশা ছিল ফসল ধরলে অন্ন জোটবে,এখন হতাশার কালোরেখা চোখে মুখে ফুটছে।অনেকের স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগমী সন্তানের পড়ার বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।নতুন করে ক্রয় করার সামর্থ নেই।আছে সবার ক্ষিধে নিবারণের তাড়না।প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নিত্যদিনের অন্য যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।তাছাড়া প্রত্যেকের পুকুরেই পানি ডুকে তা ব্যবহার অনুপযোগী করে ফেলেছে।অনন্যুপায় হয়ে এই পানি ব্যবহার করে নানা রোগ-বালাইর মুখোমুখি হচ্ছেন দূর্গত এলাকার মানুষ।
এমতাবস্থায় আমরা লোক দেখানো ত্রাণ বিতরণে মনযোগ না দিয়ে সমস্যার গভীরে গিয়ে পরিকল্পিত কাজ করতে হবে।বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা ও ব্যক্তিকে বন্যা দুর্গদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।প্রত্যেক এলাকার সামর্থবানরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর ভুমিকা পালন করতে হবে।সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রমকে সমন্বয় করে সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্য নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ স্কিম নিতে হবে।তাদের জন্য সরকারী ভাবে বিনা সূদে ঋনের ব্যবস্থা করতে হবে।মৎস খামারের মালিকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে বিনা সূদে কর্জে হাসানা হিসেবে প্রয়োজনীয় মূলধন সর্বরাহের পদক্ষেপ নিতে হবে।বন্যার পানি চলে যাওয়ার মুহুর্তে স্বাস্থসেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।পাশাপাশি গরীব-অসহায় মানুষের জন্য জরুরী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি দূর্গতদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেয়ারও চেষ্টা করতে হবে।এতে তারা তাদের প্রয়োজন মুহুর্তে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারবে।আল্লাহ আমাদেরকে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার তাওফীক দান করুন।আমীন।

     এ জাতীয় আরো খবর