,

বিধ্বস্ত জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কে সংস্কার কাজ শুরু হবে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অনুমোদনের পর

আল মামুন,জকিগঞ্জ:

সিলেট শহর থেকে জেলার সবচেয়ে দূরবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ। জেলা শহর থেকে জকিগঞ্জের দূরত্ব ৯১ কি.মি.। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বিধ্বস্ত হয়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। যানবাহন চলে ঝুঁকি নিয়ে। গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে বেশি, বেড়েছে যাত্রী ও চালকদের কষ্ট। ক্ষতি হচ্ছে পরিবহনেরও। ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। কবে এ সড়কে কাজ শুরু হবে তার ঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়কে সৃষ্ট শত শত গর্ত ভরাট না করা হলে এ সড়কটি নড়কে পরিণত হবার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গত শনি ও রবিবারের বৃষ্টিতে পানি জমে গর্তগুলি বিপদজনক স্থানে পরিণত হয়েছে।
সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ এ চার উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পুরো অংশ জুড়েই কমবেশি ভাঙ্গা রয়েছে। পিচ ওঠে খানাখন্দ তৈরী হয়েছে খানে খানে। বৃষ্টিতে কাদা হয়, রোদে ধুলা উড়ে। বিশেষ করে শাহবাগ থেকে আটগ্রাম-কালীগঞ্জ-জকিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। ১৭ সেপ্টেম্বর এ সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই কন্যা শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এ সড়কের বিবর্ণ দশা দেখে বুঝার উপায় নেই যে জকিগঞ্জবাসীর বড় এ সমস্যাটি দেখার মতো কোনো অভিভাবক আছেন। এ সড়ক সংস্কারের দাবীতে সিলেট সড়ক পরিবহন সমিতি ২৬ জুলাই পরিবহন পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হয়। জেলা সমন্বয় সভায় এ বিধ্বস্ত সড়ক নিয়ে একাধিকবার আলোচনা সভায় আলোচনা হয়েছে। জকিগঞ্জ উন্নয়ন সমিতি সিলেট এ সড়কটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছে। নানা কর্মসূচি পালন করেছে জকিগঞ্জ যাত্রী কল্যাণ পরিষদৗ।কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না । সড়ক ও জনপথ বিভাগের আশ্বাসেই সন্তোষ্ট থাকতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। হচ্ছে হবে বলে তিন বছর যাবত কষ্ট করছেন সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারীরা।

বাস চালক বদরুল আলম বলেন- ‘মনে হয় এই বুঝি গাড়ি উল্টাইয়া গেল। ঝুকিঁ নিয়াই গাড়ি চালাই। এ সড়কে গাড়ি চালাইতে সময়, তেল ও যন্ত্রপাতি নষ্ট এবং যাত্রীদের কষ্ট হয়’।
বাসযাত্রী শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন-নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহারের কারণেই রাস্তাটি ঘনঘন নষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তা নষ্ট হলে ইঞ্জিনিয়ার, কর্মকর্তা ,কর্মচারী ও ঠিকাদার আবার কাজ পান। দুই ঘন্টার রাস্তা আসতে যেতে এখন পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে।

জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পরে কখনো গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এভাবে বিধ্বস্ত হয়নি। সঠিক নেতৃত্ব ও যোগ্য প্রতিনিধিত্ব না থাকায় আমরা আরো কত কষ্ট করবো তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আওয়ামীলীগ নেতা নাসিম আহমদ বলেন, এ সড়ক নিয়ে তারা প্রতিদিন সাধারণ মানুষের গালমন্দ শুনছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, চারখাই থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলছে। শাহবাগ থেকে জকিগঞ্জ পর্যন্ত ৬৫কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারের দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টেন্ডারের দরপত্র মূল্যায়নের বিষয়টি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে অনুমোদনের পর কাজ শুরু হবে। ১৭২ কোটি টাকার এ সংস্কার কাজ শুরু হতে আরো মাসখানেক সময় লাগতে পারে। সিলেট-থেকে চারখাই পর্যন্ত সড়কে যেসব স্থানে ভাঙ্গা রয়েছে সেসব স্থানও মেরামত করা হবে তিনি জানা।

     এ জাতীয় আরো খবর