,

বিয়ানীবাজারের ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা

বিয়ানীবাজারে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক যমুনা ব্যাংকের বিয়ানীবাজার শাখার ম্যানেজার স্বজল কান্তি দাস নিজ ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পৌরশহরের দক্ষিণবাজারের আল আরাফ ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি ভাড়া থাকতেন। ওই কক্ষের ফ্যানের সাথে তিনি দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। তার পরিবারের সদস্যরা সিলেট শহরে বসবাস করেন। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

পুলিশের ধারণা, আজ সোমবার ব্যাংক সময় শেষে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। ভাড়া বাসার কক্ষের ফ্যানের সাথে দড়ি দিয়ে তিনি ফাঁস দেন। তার মুখে একটি গামছা বাঁধা ছিল। বিছানার উপর একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও পানির বোতল রয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ এর নিজস্ব প্রতিবেদক তাজবীর আহমদ ছাইম জানান, আল আরাফা ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় যুমনা ব্যাংকের মিটু নামের এক কর্মকর্তার সাথে তিনি বসবাস করতেন। তাদের বসবাস ছিল পৃথক কক্ষে। তিনি বিকালে যে সময় বাসায় আসেন তখন মিটু ব্যাংকে ছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তা স্বজল কান্তি দাসের বাড়ি সিলেটের বাগবাড়ি এলাকায়। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি জুগেন্দ্র চন্দ্র দাস এবং ছায়া রাণী দাসের ৩ পুত্র ২ কন্যার মধ্যে দ্বিতীয়।

পুলিশ কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। তবে এতে কি লেখা রয়েছে জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কক্ষের মধ্যে পাওয়া সুইসাইড নোটের লেখা সাথে ব্যাংক কর্মকর্তার লেখা মিল রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যার খবর পেয়ে স্বজল কান্তি দাসের ভাগনা শুভ দাস ঘটনাস্থলে এসেছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যার খবর পেয়ে উৎসুক জনতা আল আরাফা ব্যাংক ভবন এলাকায় ভীড় করছেন। বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তার পরিবারের কাছে এ ঘটনার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি।

জানা যায়, আজ সোমবার তিনি সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকে কাজ করেছেন। বিকাল তিনটায় দুপুরের খাবার খেতে বাসায় যান। প্রতিদিন চারটার দিকে ফিরলেও আজ এ সময় ব্যাংকে না ফেরায় ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তারা এক কর্মচারিকে পাঠান। সে বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে এসে জানালে কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে ছুটে যান। তারাও বাসার দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে বাসার মালিক ও ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে খবর দেন। তারা এসে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কক্ষের মধ্যে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। তার হাতের লেখার সাথে মিলিয়ে দেখার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি তার লেখা কি না।

     এ জাতীয় আরো খবর