,

ব্যতিক্রমী জনপ্রতিনিধি জকিগঞ্জের ছালেহা বেগম

আল মামুন জকিগঞ্জ :
সংসার সামলানোর পর নারী প্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কাজে অষ্টপ্রহর ব্যস্ত থাকেন তিনি। এজন্য এলাকাবাসীর কাছ থেকে কোনো বাহবা কিংবা অন্যকোনো সুবিধা আশা করেন না তিনি। ব্যতিক্রমী এ জনপ্রতিনিধি হলেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার জকিগঞ্জ পৌরসভার ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছালেহা বেগম। যিনি সম্প্রতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা পঙ্গপট, মাইজকান্দি, বিলেরবন্দ গ্রামের পাশাপাশি এ পুরো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আপন গতিতে।
পেশায় তিনি একজন গৃহিনী হলেও নেশা তার মানবিকতা। এই গুণটি তিনি অর্জন করেন সেই ছোট বেলায় মক্তবে পড়ার সময়ই। এলাকার কোনো মহিলা মারা গেলে তাকে গোসল করানো, কাফন পরানোর কাজটি দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশংসিত হয়ে আসছে। এলাকার গরীব অসহায় প্রসূতি মায়েদের নির্ভরতার অন্যতম ঠিকানা জনসেবক ছালেহা বেগম। স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে নিরাপদ প্রসবে তিনি অকৃপণভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বিনা প্রয়োজনে সিজারের পরিবর্তে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবে তিনি বরাবরই নারীদের উৎসাহিত করে আসছেন। বিনামূল্যে অসুস্থ রোগীদের স্যালাইন ও ইনজেকশন প্রদান করার ক্ষেত্রে এলাকায় ছালেহা বেগমের নাম সবারই জানা। পশ্চাৎপদ অনগ্রসর জনপদ জকিগঞ্জের নারী সমাজের উন্নয়নে নিবেদিত ছালেহা বেগম নারীদের স্বাবলম্বী ও সঞ্চয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। সাবেক কাউন্সিলর হোসনে জাহান রিনা ও সংগঠক মাজেদা রওশন শ্যামলীকে সাথে নিয়ে ১০০ সদস্য নিয়ে গড়ে তুলেছেন‘সততা মহিলা সমিতি’। ঝড়ে পরা রোধ ও অনগ্রসর পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়মুখী করতে সক্রিয় রয়েছেন পঙ্গবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ছালেহা বেগম। সামাজিক, মানবিক, আন্তরিক কাজের কারণে ছালেহা বেগম এলাকাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন । দুই দুইবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। সেরা সমাজকর্মী হিসেবে জয়িতা নারী পদকে ভূষিত হয়েছেন ছালেহা।
তার সম্মানী ভাতার বেশির ভাগই তিনি জনকল্যাণে ব্যয় করার ব্রতী নিয়েছেন। এলাকায় রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, স্যানেটারী লেট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন, বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা, প্রেগনেন্সি ভাতা প্রদানে নিরপেক্ষ ও যথার্থ ভ’মিকা রাখছেন তিনি। ছালেহা বেগমের ব্যবসায়ীক স্বামী মস্তকীন আলী বলেন, ৩২ বছরের সংসার জীবনের শুরু থেকেই ছালেহা বেগম মানুষের জন্য নি:স্বার্থভাবে কাজ করে আসছেন। আমার বাচ্চারা যে পরিমাণ সময় পেয়েছে এলাকার মানুষকে ছালেহা সময় দিয়েছেন এর থেকে বেশি। গভীর রাতেও সে মানুষের ডাকে ছুটে যায়। সমাজকর্মী ছালেহা বেগমকে সার্বক্ষণিক সঙ্গদানকারী নারী নেত্রী মাজেদা রওশন শ্যামলী বলেন, আমরা ছালেহা আপার কাজে খুবই খুশি । আমরা তার জন্য দোয়া করছি যাতে তিনি এইভাবে মানুষের সমস্যা দূর করতে পারেন। এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপচারিতায় ছালেহা বেগম জানান, ২০১১ নির্বাচনে প্রথম বারের মত অংশগ্রহণ করেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আমার মনে মানবকল্যাণের চিন্তার জায়গাটি সম্প্রসারিত হয়। আর সেই থেকেই ভাবি কিভাবে অসহায় দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। তার এই নিঃস্বার্থ কাজের বিরল দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই। আমাদের সমাজে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেশির ভাগই স্বার্থ ছাড়া তেমন কোনো কাজ করতে দেখা যায় না সেই ক্ষেত্রে ছালেহা বেগম ব্যতিক্রম। ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের মমতাময়ী মা ছালেহা বেগম বলেন আমার বিত্ত নেই কিন্ত চিত্ত আছে । আমি প্রত্যাশা করছি সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এসে স্ব-উদ্যোগে এসব কাজ করলে নিজ নিজ এলাকার রাস্তা-াঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষার্থীদের কোনো সংকটই আর থাকবে না। মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন করলে পরকালে স্রষ্টা এর প্রতিদান দেবেন আর দুনিয়াতেও এর সুফল পাওয়া যাবে। এগিয়ে যাবে দেশ, এগিয়ে যাবে মানুষ। এটাই আমার কামনা।

     এ জাতীয় আরো খবর