,

মা মা ডাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জকিগঞ্জে দুর্গা দেবীকে বিদায়

স্টাফ রাইটার::
শরতের বাতাসে আজ বিকেলে জকিগঞ্জের আকাশ ছিল স্নিগ্ধ-কোমল। সকালে আকাশ থেকে ঝরছিল হালকা বৃষ্টি। বিকেলে ছিল নৈনিতাল বাতাসের মৃদু হাওয়া। প্রকৃতিও যেন ঝরেছে ভক্তদের হয়ে। উৎসব, আনন্দের বর্ণিল দেবিপক্ষ শেষে ভক্তকুলকে বিষাদে ভাসিয়ে বিদায় নিলেন মহামায়া জগজ্জননী দেবী দুর্গা। মর্ত্যলোক থেকে চার সন্তানকে সাথে নিয়ে তিনি ফিরে গেলেন পতিগৃহ কৈলাসে। আর এরই সাথে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হল সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়াতে নৌকায় চড়ে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী। মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমীর সকল আনুষ্ঠানিকতা ও পূজা আর্চনার পর আজ পালিত হল বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচদিনের বাঁধভাঙ্গা আনন্দের পর ভক্তরা আজ বিজয়া দশমীর দিনে ছিলেন অশ্রুসিক্ত। মা মা করুণ ডাকে জকিগঞ্জের কাস্টমসঘাটে কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবীকে।
কুশিয়ারা নদী তীরের কাষ্টমঘাটে শনিবার বসেছিলো দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা। চোখের জল আর হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে জড়ো হন হাজারো পূজারী ভক্ত অনুরাগী, দর্শনার্থী ও শুভার্থীরা। এ উপলক্ষে হিন্দু, মুসলিম পদচারনায় মূখরিত হয়ে উঠে জকিগঞ্জ পৌর শহরের কাষ্টমঘাট ও ভারতের কাষ্টমঘাটস্থ অখন্ড মন্ডলী মন্দিরের প্রাঙ্গন।
বাঙ্গালী হিন্দুদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজার প্রতিমা নিরঞ্জনে কাস্টমঘাটে হিন্দু সম্প্রদায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্থরের মানুষ অংশ নেয়। পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, আনসার সদস্যরা ছিল সর্তক অবস্থায়। ঢাকঢোল, কাসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি এবং শঙ্খ’র ধ্বনির আওয়াজে মূখরিত হয়ে উঠে গোটা এলাকা। মর্তলোক থেকে কৈলাশে দেবীকে বিদায় জানাতে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হন ভক্তরা।
ভক্তরা সেজেছিলেন উৎসবের বর্ণিল রঙে। বিজিবি এবং বিএসএফের সদস্যরাও মেতে উঠেছিলেন উৎসবে। কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরে প্র্রতিমা নিরঞ্জনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ছিল জোরদার। বিজিবি, পুলিশ মজুত ছিল নদীর তীরে।
জকিগঞ্জের ৯৩ টি পূজা মন্ডপ থেকে ট্রাক ও নৌকাযোগে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন ঘাটে আসেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে সীমান্ত ঘেঁষা এ নদীপাড়ের নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরেই এ উৎসব জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর কাষ্টমঘাটে ও ভারতের অখন্ড মন্ডলী মন্দিরের পাশের ঘাটে চলে আসছে।
প্র্রতিমা বিসর্জন মঞ্চে সভাপতিত্ব করেন পূজা পরিষদ সভাপতি সঞ্জয় চন্দ্র নাথ। সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাস ও শিক্ষক পাচু মোহন বিশ্বাসের সঞ্চলনায় আলোচনায় অংশ নেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি খলিল উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার, জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, ঢাকা উত্তর সিটির কাউন্সিলর ফয়জুল মুনির চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দর, ফারুক আহমদ, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত পাল, পৌর কাউন্সিলর রিপন আহমদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক বিভাকর দেশমূখ্য, কাশ্যাপ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি নবেন্দু রায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জকিগঞ্জ পূর্জা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সঞ্জয় চন্দ্র নাথ ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাস জানান, জকিগঞ্জে ৯৩ টি পুজা মন্ডপেই শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দূর্গোপূজা শেষে কুশিয়ারা নদীর কাষ্টমঘাটে প্রতিমা বিসর্জনে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের মিলন মেলা যেন সৌহার্দ ও সম্পীতির মেলাবন্ধন। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনে সকলের সহযোগীতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

.

.

     এ জাতীয় আরো খবর