,

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বরাদ্দ কমল ১.৮%

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে গতবারের চেয়ে এক দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এইখাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হলেও এবার তা দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে মোট বাজটের ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এবার তা কমে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছে।

এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন সামনে রেখে ভোটের বছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

এবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে ২৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে ২ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে রবাদ্দের তুলানামূলক চিত্র

অর্থবছর

মোট বরাদ্দ (কোটি টাকায়)

২০১৮-১৯

৬৭,৯৩৫

২০১৭-১৮

৬৫,৪৪৩

২০১৬-১৭

৫২,৯১৪

২০১৫-১৬

৩৪,৩৭৭

২০১৪-১৫

৩২,৭৮০

২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২২ হাজার ২২ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে ২৩ হাজার ১৪১ কোটি টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে ৫ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ১১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে ৩ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৬ হাজার ৮৪৮ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ২২ হাজার ১৬২ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ৬৯ কোটি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে বরাদ্দ রাখা হয় মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ১৭ হাজার ১১২ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ১৪ হাজার ৫০২ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১ হাজার ৫৫০ কোটি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ১৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকুলে ১৩ হাজার ৬৭৬ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২ হাজার ৫২৮ কোটি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে ১ হাজার ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

বাজেট বক্তৃতায় ‍মুহিত বলে, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার প্রসারে আমরা ইতোমধ্যে অনেকখানি অগ্রসর হয়েছি। এখন আমরা মনোযোগ দিতে চাই জীবনমানে মৌলিক পরিবর্তন আনার উপযোগী শিক্ষা প্রদান এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার উন্নত পরিবেশ গঠনের দিকে।

“আমরা মনে করি জীবনের শুরুতে একটি শিশু যদি ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ, কর্মনৈপুন্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বোধ নিয়ে বেড়ে উঠে সে শিশু হয়ে উঠতে পারে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের রূপকার। শিশুদের উপযোগী করে এসব মৌলিক শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণ এবং অবশিষ্ট ৩৮৯টি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“একই সাথে, বিদ্যমান প্রশিক্ষণকেন্দ্রসমূহে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের আয়োজন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে জনপ্রিয় করা হচ্ছে।

“এছাড়া ৪টি বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে গার্লস টেকনিক্যাল স্কুল, ২৩টি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং সকল বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ৩৫টি মডেল মাদ্রাসা স্থাপন ও ৫২টি মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করেছি এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

মুহিত বলেন, “সবার জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বিপরীতে মোট ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। এটি হচ্ছে কোনো খাতে আগামী বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। — বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

     এ জাতীয় আরো খবর