,

সাংবাদিকদের তোপের মুখে বদরুজ্জামান সেলিম : মনোনয়ন প্রত্যাহার না করার প্রত্যয়

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম আরিফুল হক চৌধুরীর ‘স্বশিক্ষিত’ প্রসঙ্গ নিয়ে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন। রোববার দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী কলেজে লেখাপড়া করেও হলফ নামায় নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, এই অনিয়মের জন্য আরিফুল হক চৌধুরীর নমিনেশন বাতিল হবার কথা থাকলেও সরকারের কোন মহলের আর্শীবাদে নাকি তিনি পার পেয়ে যান।
তার এমন বক্তব্য শুনে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন বদরুজ্জামান সেলিম। তারা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করার পরও একজন মানুষ নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ বলতে পারে এতে তথ্য গোপন হবার মতো কোন ঘটনা ঘটেনা। জনপ্রতিনিধি হবার ক্ষেত্রে আমাদের সংবিধানের কোথাও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ নেই।

সংবিধানের ৬৬ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তার বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হলে তিনি সংসদ সদস্য হতে পারেন। তবে শর্ত হলো, কোনো উপযুক্ত আদালত যদি তাকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন; যদি তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়া পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করেন; তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়; যদি তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যেকোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকেন তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। দেখা যাচ্ছে, এতসব শর্তের মধ্যে কোথাও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ নেই।
বিএনপির সিনিয়র এবং বিতর্কিত নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) যথেষ্ট শিক্ষিত হওয়ার পরও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
বিএনপির নেত্রী এবং তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ বলে তাঁর নির্বাচনী হলফ নামায় উল্লেখ করেছিলেন।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বদরুজ্জামান সেলিম তার বক্তব্যের মধ্যে বার বার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করা শুরু করলে একজন সিনিয়র সাংবাদিক দাঁড়িয়ে বলেন, সেলিম সাহেব আপনি আপনার বক্তব্য দিয়ে যান। আমাদেরকে প্রশ্ন করবেন না।
সংবাদ মম্মেলনে মহানগর বিএনপির কোন নেতা তার সাথে দেখা না গেলেও তিনি দাবী করেন, দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী তার সাথে রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এক জন সাংবাদিক জানতে চান, মহানগর বিএনপির কোন কোন নেতা তার সাথে রয়েছেন। জবাবে সেলিম জানান, বিশেষ কারনে তাদের নাম বলা যাবেনা।
তিনি বলেন, আমি কখনই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। দল আমার প্রতি অবিচার করেছে তাই এবার দলের নির্দেশ মানতে পারছি না। মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন ৩০ জুলাই নতুন ইতিহাস তৈরী হবে সিলেটে। তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি দাবী করেন।

     এ জাতীয় আরো খবর