,

সামনে ঈদ : সতর্ক থাকুর জাল টাকার নোটের ব্যাপারে

স্টাফ রাইটার::
ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে জাল নোট চক্র। জাল নোট ছড়িয়ে দিতে নোট প্রস্ততকারী, এজেন্ট ও সরবরাহকারী মিলে বাজারে নেমেছে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট। নানা কৌশলে তারা সিলেটের বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে জাল নোট। জাল নোট পরিবহন ও বাজারে ছড়াতে তারা নারীদেরও ব্যবহার করছে বলে কয়েকজন দোকানী জানিয়েছেন। অতএব সতর্ক না থাকলে আপনার হাতেও তুলে দেয়া হতে পারে জাল টাকার নোট। এতে আপনি শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না পড়তে পারেন বিপদেও।

জানা যায়- প্রতিবার রোজা ও ঈদে সিলেটের বাজারে কেনাকাটা বেড়ে যায়। এ সুযোগে জাল নোট তৈরি ও সরবরাহকারী চক্রও তৎপর হয়ে ওঠে। গত বছর জকিগঞ্জ বাজারে ১০হাজার টাকার জালনোটসহ এক ব্যাক্তিকে আটক করে জনতা পুলিশে দিয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৫ সালে সীমান্তবর্তী কানাইঘাট থেকে ১০ লাখ টাকার জাল নোটের একটি চালান সিলেট নগরীর হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় আটক করে র‌্যাব। এ সময় আটক করা হয় কানাইঘাট উপজেলার মহিষপুর গ্রামের নূর হোসেন (৪৫), একই উপজেলার শিবনগর গ্রামের ইমদাদ উল্লাহ (৫৫) ও ঢালাইচর গ্রামের গীতা রাণী মালাকারকে (৪৫)।
সূত্র জানায়- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এজেন্টদের মাধ্যমে সিলেটে আসে জাল নোট। এরপর প্রতারক চক্র দিয়ে জাল নোট বাজারে ছাড়া হয়। তারা বিভিন্ন বাজার ও বিপণী বিতানে গিয়ে জিনিসপত্র কিনে দোকানদারকে জাল নোট সমঝে দেয়ার চেষ্টা করে। পথচারীদের কাছ থেকে খুচরা টাকা নিতে গিয়ে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট দিয়ে কেটে পড়ছে প্রতারকরা। এছাড়া ছেঁড়া নোট পরিবর্তন ও ডলার পাউন্ড ভাঙানোর নামেও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে জাল নোট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জকিগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান- গত মঙ্গলবার অটোরিকশা নিয়ে এক নারী এসে দোকান থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার জিনিসপত্র কেনেন। নারী ক্রেতা চলে যাওয়ার পর দেখতে পান দুই হাজার টাকার মধ্যে একটি পাঁচশত টাকার নোট জাল।
জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেলের অতিরিক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার জানান- জকিগঞ্জে জাল নোটের সিন্ডিকেটের কোন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। জাল টাকা সনাক্ত করার পর্যাপ্ত মেশিন নেই জানিয়ে তিনি বলেন দুইটি মেশিন জকিগঞ্জের বড় দুটি গরুর বাজারে বসানো হবে। তবে ঈদকে সামনে রেখে কোন সিন্ডিকেট জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে কি-না এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বেশি প্রয়োজন।

     এ জাতীয় আরো খবর