,

সিলেট-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে ?

আল মামুন, জকিগঞ্জ ::
১৯৮৬ সালে চতুর্থ সংসদে ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনে। ১৯৯১ সালে কানাইঘাটের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ্ব এম এ রকিব জাপার প্রার্থী ছিলেন। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে সাবেক মন্ত্রী এম এ হকের ছেলে রিয়াজুল হক জাপার প্রার্থী হিসেবে ২৩৫৩৮ ভোট পেয়েছিলেন। জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বির আহমদ জকিগঞ্জ ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে থেকে নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। ১১ ডিসেম্বর ২০১১ হুসেইন মো. এরশাদ টিপাইমুখ বিরোধী লংমার্চের জকিগঞ্জের জনসভায় শাব্বির আহমদকে নিজের পুত্রতুল্য উল্লেখ করে দশম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তাকে জাপার প্রার্থী ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মহাজোটে জাপার প্রার্থী হিসেবে এ আসনে বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা বর্তমান এমপি আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনে সেলিম উদ্দিন ও শাব্বির আহমদ দুজনই জাপার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এ আসনে লড়তে চান। জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য, সিলেট জেলা জাপার যুগ্ম আহবায়ক শিল্পপতি সাইফুদ্দিন খালেদ, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য জাতীয় ছাত্র সমাজ সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি ব্রিটেন প্রবাসী ব্যবসায়ী এম জাকির হুসেইন, জেলা জাপার সম্মাানিত সদস্য কানাইঘাট উপজেলা জাপার সহসভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বারাকাত, নবম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাপা নেতা এম এ মতিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হেলাল লস্কর, কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাপা নেতা ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন এ আসনে জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আঞ্জুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। কেউ কেউ বলছেন তিনিও জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন।
আওয়ামীগ, বিএনপির মতো জাতীয় পার্টিতেও রয়েছে কোন্দল। জকিগঞ্জ জাপা এখন চার টুকরা। বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিনের সাথে রয়েছেন একাংশ। অপর দুটি গ্রুপের একটি সাইফুদ্দিন খালেদের সমর্থক অন্যটি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বির আহমদের সমর্থক। উপজেলা জাপার সভাপতি মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুর পর সাধারণ সম্পাদক হেলাল লস্করের কমিটির অনেকেই এখন অনেকটা নিরব রয়েছেন ।
কানাইঘাটেও একই অবস্থা। এমপি সেলিম উদ্দিনের সমর্থিত কমিটির সভাপতি হলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমদ। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট বিভাগ জাপার সমন্বয়কারী তাজ রহমান সমর্থিত কমিটির সভাপতি হলেন আলাউদ্দিন মামুন আর সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ। দুটি উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে জাপার অনেক সমর্থক রয়েছেন। দলীয় কোন্দলের কারণে কর্মী ও সমর্থকরা হতাশ ও দ্বিধাগ্রস্ত।
জকিগঞ্জের বাবুর বাজারে জাতীয় পার্টির একটি সংবর্ধনা সভায় বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিন নিজেকে আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেন। তিনি বলেন জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এ এলাকার মানুষের সেবা করার জন্য। জাপার একটি সূত্র জানিয়েছে আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিনকে আগামী নির্বাচনে সিলেট-৫(জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) ও সিলেট-৬ আসনে বিয়ানীবজার-গোলাপগঞ্জ আসনে জাপার প্রার্থী হতে পারেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বির আহমদ বলেন, গত নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করার পরও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলীয় প্রধানের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। এবারো দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। দলের নেতা-কর্মী ও গ্রাম গঞ্জের মানুষের সাথে আমার সম্পৃক্ততা রয়েছে। আশা করি দল আামাকে হতাশ করবে না।
বিগত উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হবো না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যাকেই দল মনোনয়ন দিবে তাকেই ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করতে কাজ করবো।
সাবেক ছাত্রনেতা জাকির হুসেইন বলেন, আমি যখন ছাত্র সমাজের দায়িত্বে ছিলাম তখন দলকে সংগঠিত করতে সময় দিয়েছি। অনেককেই জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করেছি। এখনো দলের জন্য কাজ করছি। স্যার(এরশাদ) আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তবে দল যাকে লাঙ্গল দিবে তার পক্ষেই কাজ করবো।
উপজেলা জাপার একাংশের সাধারণ সম্পাদক হেলাল লস্কর বলেন, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কোনো প্রার্থীর হাতে লাঙ্গল তুলে দিলে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রার্থী বাছাই করতে হবে তৃণমূলের মতামত অনুযায়ী।
উপজেলা জাপার একাংশের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, অর্থবিত্ত সব বিবেচনায় এ আসনে জাপার সেরা প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ। তিনি বলেন, এ আসনে কোনো বহিরাগত প্রার্থীকে মেনে নিবে না নেতাকর্মীরা। সেলিম উদ্দিন এমপি হওয়ার পর বলেছিলেন সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। তিনি আজ পর্যন্ত জকিগঞ্জ জাপার নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো বৈঠক করতে পারেননি। তিনি নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করেননি। তিনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের সন্তান না হবার কারণে এলাকাবাসীর প্রতি তার কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
উপজেলা জাপার সাবেক সদস্য সচিব নুমান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনে বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই। তিনি নির্বাচনী এলাকা ও সংসদে অনেক সময় দিচ্ছেন। মানুষের সুখ দু:খ দেখার জন্য নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়ান। অতীতের কোনো এমপি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসীর এত কাছাকাছি আসেননি। লাঙ্গল প্রতীক পাওয়ার পর সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে কাজ করবে বলেও তিনি মনে করেন।

     এ জাতীয় আরো খবর