,

জকিগঞ্জে নাটক চর্চার ইতিহাস : সমৃদ্ধ অতীত বিবর্ণ বর্তমান

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন:
‘সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার’ হ”েছ নাটক। সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না,প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সমস্যা-সম্ভাবনা আর দৈনন্দিন জীবন প্রণালী ¯’ান পায় নাটকে। এ ক্ষেত্রে মঞ্চ নাটকের ভ’মিকা অনন্য। সারা দেশের ন্যায় সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জেও এক সময় অনেক নাটক মঞ্চ¯’ হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক নাটক চর্চায় এ এলাকার নাট্যকর্মীরা বিশেষ ভ’মিকা রেখেছেন। তখন জকিগঞ্জে নাটকের দর্শক ছিল প্রচুর। ভালো ভালো পরিবারের সদস্যবৃন্দ দল বেঁধে নাটক উপভোগ করতেন। ¯’ানীয়দের সাথে দর্শক সাড়িতে বসতেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী-সন্তানরা। আজ এখানে নাটক চর্চা নেই বল্লেই চলে। কুশিয়ারা সাংস্কৃতিক সং¯’া প্রগতি সাংস্কৃতিক সং¯’া, দুর্জয় সাংস্কৃতিক সং¯’া, জকিগঞ্জের নাটক চর্চায় তিনটি পরিচিত নাম। এ দুটি সং¯’ার সাথে জড়িত থেকে বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের বাহবা পেয়েছেন মৃত তজু মিয়া(কেছরী),কাদির মিয়া(আলমনগর), আব্দুল মানিক(কেছরী), মোহাম্মদ আলী মাস্টার(কুমিল্লা), মৃত আব্দুল খালিক মাস্টার(লোহারমহল), দাঁতের ডা. আব্দুস সালাম(আলমনগর), অশোক কুমার রায়(খলাছড়া), শামসু উদ্দিন(মাইজকান্দি) হেলাল উদ্দিন(বিলেরবন্দ), রতিশ চন্দ্র রায়(আজমিরীগঞ্জ বাড়ি),মঙ্গলাল বিশ্বাস, মোস্তাক আহমদ(কাউন্সিলর), খোকা বাবু, আব্দুল আহাদ(পুলিশ সদস্য),মঈনুল হক(সৌদি প্রবাসী) মৃত আতিকুর রহমান ও তার ভাই প্রয়াত মাসুক আহমদ, এনু মিয়া(কেছরী), রুহুল আমীন(কেছরী-বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী), বটই বাবু(হোসনাবাদ),আব্দুল করিম মাস্টার(হাইদ্রাবন্দ), ফজলু মিয়া(পীরেরচক), শ্রীকান্ত পাল(বড়চালিয়া), জয় কুমার রায়(হোসনাবাদ), দ্বিগেন্ড রায়(হোসনাবাদ), শুধাংসু রায়(রহিমখারচক), আশুতোষ রায়(রহিমখারচক), দিগেন্ড রায়(শ্রীপাল), অরুন রায়(বীরশ্রী),কয়সর আহমদ (কেছরী),আলাউদ্দিন আলাই(হোসনাবাদ),শাহীন আহমদ(কেছরী), নিজাম উদ্দিন(তাজরপাড়া), সুশান্ত রায়(রহিমখারচক),নয়ন বিশ্বাস(হোসনাবাদ) পরিতোষ বিশ্বাস(তেলিকান্দি), জাকির হোসেন(আলমনগর) আব্দুল কাইয়ূম,(গন্ধদত্ত) বাদল আহমদ(কেছরী)সুকান্ত রায়(হোসনাবাদ),স্বপন রায়(হোসনাবাদ), উত্তমকুমার রায়(হোসনাবাদ),বীজঘরের কমর উদ্দিন বাবর, মোস্তফা চেয়ারম্যানের ভাই মুক্তা, ননী গোপাল নাথ(আলমনগর), প্রমুখ।
যেসব নাটক জকিগঞ্জের দর্শক হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে সেগুলি হ”েছ মন্দির থেকে মসজিদ, সোহরাব রোস্তম, দ্বিতীয় পানি পথের যুদ্ধ, বারুত নিয়ে খেলা, সিদুঁর নিয়োনা মুছে, ঈসা না মানসিংহ, আনারকলি, ওরা ১১জন, মানুষ অমানুষ, গরীবের আর্তনাদ, চাবুকের জবাব, রাজরক্ত, রাজসিংহাসন, তাসের ঘর, ফেরারী সম্রাট, স্বর্ণ সিংহাসন ইত্যাদি। সংগঠকরা জানান, কুশিয়ারা সাংস্কৃতিক সং¯’া ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অন্তত ৪৩টি এবং প্রগতি সাংস্কৃতিক সং¯’া ৮টি নাটক মঞ্চ¯’ করেছে। এরমধ্যে কুশিয়ারার বেশিরভাগ নাটক ছিল ঐতিহাসিক এবং প্রগতির বেশিরভাগ নাটকই ছিল সামাজিক। প্রগতির অনেক নাটকে নির্দেশক ছিলেন মোহাম্মদ আলী খান মাস্টার। কুশিয়ারার অধিকাংশ নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন আকরাম আলী ও মানিক মিয়া তাপাদার, হেলাল উদ্দিন,আব্দুস সাত্তার মানিক। মহিলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়াস আলী(পীরেরচক),সুধাংসু মাস্টার, নিজাম উদ্দিন, ¯’ান: ষাটের দশকের শুরুতে প্রথম নাটক মঞ্চ¯’ হয় পুরাতন কোর্ট প্রাঙ্গনে। ভরনমডেল, বালক স্কুল, পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত বলেন-বড়লেখা থেকে টিম এনে নাটকসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করি উপজেলা কমপ্ক্সে মাঠে। কুশিয়ারা সাংস্কৃতিক সং¯’ার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে। এর প্রথম সংগঠকরা হলেন আকরাম আলী, আব্দুস সালাম, । কুশিয়ারার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বিলেরবন্দের হেলাল উদ্দিন বলেন, মন্দির থেকে মসজিদ, সোহরাব রোস্তম, দ্বিতীয় পানি পথের যুদ্ধ, বারুত নিয়ে খেলা,ঈসা খাঁ, রাজসিংহাসন ইত্যাদি নাটকে নায়কের অভিনয় করেছেন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে ও একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে নাটক পরিবেশিত হয়। ব্যক্তিগত চাঁদা ছাড়াও প্রশাসন ও বণিক সহায়তা করেছেন। নাটকের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ মিছিল হয়েছে। আওয়াজ যেন দূরে না যায় সে জন্য নাটকের মাইক মাটিতে রেখে বাজানো হয়েছে এক সময়। নাটকে পৃষ্টপোষকতা করেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকরাম আলী(মাদারখার),আব্দুন নূর মেম্বার, রহমান আলী(গন্ধদত্ত), সাবেক আনসার সদস্য মৃত মালিক মিয়া(ছয়লেন মৃত ফজলু মিয়া(লামারগ্রাম),। ভারতের করিমগঞ্জ, ঢাকার শিল্পী। ওসি নাসির উদ্দিনের আয়োজনে সুবল দাস(যার শ্বশুর বাড়ি আলমনগর), উস্তাদ অশ্বীনি রায়, উস্তাদ হাসান আলী খান, মালতি দাসের উপ¯ি’তিতে থানা প্রাঙ্গনে প্রথম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। ডেভলপমেন্ট অফিসার(ডিও) আনোয়ার হোসেন সঙ্গীত ও নাটক মঞ্চ¯’ করতে সহযোগিতা করতেন।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন
জকিগঞ্জ(সিলেট)প্রতিনিধি
১২.৫.২০২১
০১৭১১০৬৮০৮২

     এ জাতীয় আরো খবর