,

রাাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে জকিগঞ্জে দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল দিবস পালিত


জকিগঞ্জ প্রতিনিধি::
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা. আলোচনা সভা ও মিষ্টি বিতরণের কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার জকিগঞ্জে দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল দিবস পালিত হয়েছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের উদ্যোগে সকালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও পৌরসভার মেয়র মো. খলিল উদ্দিন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মুতালেবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারি কমান্ডার ফজলুর রহমান, নিপেন্দ্র বিশ্বাস ,মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল আহাদ, সিলেট জেলা সন্তান কমান্ডের সহসভাপতি সারওয়ার হোসেন চৌধুরী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক ও উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম মুন্না, জকিগঞ্জ পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম, পৌরসভা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আব্দুল মনাফ, খলাছড়া সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আব্দুল মানিক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এনামুল চিশতি প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর রাতে যৌথ বাহিনীর এক সাঁড়াশি অভিযানের ফলে ২১ নভেম্বর ভোরে মুক্ত হয় জকিগঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে জকিগঞ্জ ছিল ৪নং সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত। অধিনায়ক ছিলেন মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত। মরহুম সাবেক মন্ত্রী এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজী ছিলেন এই সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা। সহকারী উপদেষ্টা ছিলেন তৎকালীন এমএলএ এমএ লতিফ।৬টি সাব সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব রব সাদী, লে. জহির উদ্দিন ও ক্যাপ্টেন এম.এ.রব।
তারা বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জকে মুক্ত করার পরিকল্পনা অনুসারে ২০ নভেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী ৩টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রথম দল লোহার মহলের দিকে ও দ্বিতীয় দল অমলসীদের দিকে অগ্রসর হয়।মূল দল জকিগঞ্জের কাষ্টমঘাট বরাবর করিমগঞ্জ কাষ্টমঘাটে অবস্থান নেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে কুশিয়ারা নদী অতিক্রম করে জকিগঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। পাক বাহিনী খবর পেয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে।মুক্তিবাহিনী তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ভেবে তারা আটগ্রাম-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে পালাতে থাকে ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দল জকিগঞ্জ পৌঁছে যায়।মূল দল কুশিয়ারা নদীতে রাবারের বালিশ দিয়ে সেতু তৈরি করে জকিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। তখন পাক সেনাদের বুলেটে শহীদ হন ভারতীয় বাহিনীর মেজর চমন লাল ও তার দুই সহযোগী। এভাবে মুক্ত হয় জকিগঞ্জ।
সেই থেকে স্বীকৃতির অপেক্ষায় দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা। ১৯৭১ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম মিছিল বের হয় জকিগঞ্জে। পাকিস্তানের পতাকায় ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন।
স্বাধীনতার ৪৬বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বীকৃতির অপেক্ষা করছেন এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা। দেশে প্রথম বিজয়ের প্রভাতে নিঃশ্বাস নেওয়া এই অঞ্চলের লাখো মানুষের দাবিও এখন এটি। ২১ নভেম্বর প্রথম মুক্তাঞ্চল দিবস হিসেবে পালিত হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে না।

     এ জাতীয় আরো খবর